ঘটনার পরে মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়ে, কোনও মতে ক্লাস সেরে বাড়ি ফিরে সমস্ত ঘটনা জানায় অভিভাবকদের।

স্কুল চত্বরের ছবি
শেষ আপডেট: 10 July 2025 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের শৌচাগারে রক্তের দাগ। তার জেরে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের জোর করে জামা খুলিয়ে চেক করার অভিযোগ উঠল মহারাষ্ট্রের একটি স্কুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই ছাত্রীরা পিরিয়ডে রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে বাধ্য করা হয়। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও এক মহিলা অ্যাটেনড্যান্টকে। মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা আইন (POCSO)-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি বেসরকারি স্কুলের। মঙ্গলবার টয়লেটে রক্তের দাগ দেখতে পান সাফাই কর্মীরা। তাঁরা সেটির ছবি তুলে দেখান স্কুলের শিক্ষকদের। এরপর ওই ছবি প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় স্কুলের হল ঘরে ডাকা ছাত্রীদের। মূলত পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রীরা ওই সময় সেখানে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ছাত্রীদের দুই দলে ভাগ করতে বলেন স্কুলের প্রিন্সিপাল, যারা পিরিয়ডে রয়েছে এবং যারা নয়। এরপর যাঁরা পিরিয়ডে নেই বলে জানান, তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় টয়লেটে এবং সেখানে এক মহিলা পিয়নের মাধ্যমে ‘শারীরিক পরীক্ষা’ চালানো হয়।
অভিযোগ, ১০-১২ বছর বয়সি ছাত্রীদের অন্তর্বাসে হাত দিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হয়। এক ছাত্রীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করছিল, অথচ সে জানিয়েছিল সে পিরিয়ডে নেই। এরপরই ওই ছাত্রীকে সবার সামনে অপমান করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। মেয়েটিকে জোর করে অপমান করে তার আঙুলের ছাপও নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে যাতে পরবর্তীতে সে কথা অস্বীকার না করতে পারে।
ঘটনার পরে মেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়ে, কোনও মতে ক্লাস সেরে বাড়ি ফিরে সমস্ত ঘটনা জানায় অভিভাবকদের। এরপরই বুধবার স্কুলের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ওছে কঠোর শাস্তির দাবি।
এরপরই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন অভিভাবকেরা। ঘটনায় স্কুলের প্রিন্সিপাল, মহিলা পিয়ন, চারজন শিক্ষিকা এবং দুই ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রিন্সিপাল ও পিয়নকে। বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে থানে রুরাল পুলিশ।
এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ছাত্রীরা যে ভয়ঙ্করভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে, তার যথোপযুক্ত বিচার হবে।
স্কুলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়াদের বক্তব্য, সব কিছু খতিয়ে দেখে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হবে।