বিজেপির বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৪ সালে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জ্যানিস শাকাওস্কির সাক্ষাৎ। শাকাওস্কি সেই সাত জন সাংসদের অন্যতম, যাঁরা ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় গ্রেফতার উমর খালিদকে জামিন দেওয়ার আর্জি জানিয়ে ভারত সরকারকে চিঠি লিখেছেন।

উমর খালিদ, রাহুল গান্ধী এবং জোহরান মামদানি
শেষ আপডেট: 2 January 2026 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমর খালিদের (Umar Khalid) মুক্তি ও ন্যায়সঙ্গত বিচারের দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে যে আলোচনা দানা বাঁধছে, তাকে ঘিরে এবার সরাসরি ‘ভারত-বিরোধী চক্রান্ত’-এর (Anti India Conspiracy) অভিযোগ তুলল বিজেপি। দলের দাবি, এই প্রচেষ্টার সূত্রপাত মার্কিন মুলুক (USA) থেকে, আর সেই সূত্রে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
নিউইয়র্কের সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মেয়র (Newyork Mayor) জোহরান মামদানির (Zohran Mamdani) উমর খালিদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং তার পরপরই আট জন মার্কিন সাংসদের ভারতীয় দূতকে লেখা চিঠিকে একসূত্রে বেঁধে দেখছে বিজেপি। শুক্রবার এক্স-এ একাধিক পোস্টে দলের তরফে দাবি করা হয়, বিদেশি মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে।
বিজেপির (BJP) বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৪ সালে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেস (US Congress) সদস্য জ্যানিস শাকাওস্কির সাক্ষাৎ। শাকাওস্কি সেই সাত জন সাংসদের অন্যতম, যাঁরা ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় গ্রেফতার উমর খালিদকে (Umar Khalid) জামিন দেওয়ার আর্জি জানিয়ে ভারত সরকারকে চিঠি লিখেছেন।
বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি রাহুল গান্ধী, জ্যানিস শাকাওস্কি এবং ইলহান ওমরের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করেন, এই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ভারতের স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর। তাঁর অভিযোগ, “বিদেশে যখনই ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়, পিছনে একটাই নাম ঘুরে ফিরে আসে - রাহুল গান্ধী।”
ভাণ্ডারি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালে আমেরিকায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে শাকাওস্কি ও ইলহান ওমরের বৈঠকের পরই বিদেশে আইনগত তৎপরতা শুরু হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শাকাওস্কির আনা ‘কমব্যাটিং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামোফোবিয়া অ্যাক্ট’, যেখানে ভারতের নাম উল্লেখ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর ‘দমন’-এর অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে বিজেপির দাবি।
একটি সময়রেখা তুলে ধরে বিজেপি মুখপাত্র লেখেন - ২০২৪ সালে সাক্ষাৎ, ২০২৫ সালে সংশ্লিষ্ট বিল পেশ, আর ২০২৬ সালে সেই একই সাংসদের ভারত সরকারকে লেখা চিঠিতে উমর খালিদের মামলার প্রসঙ্গ তোলা, সব মিলিয়ে এটি কাকতালিয় বিষয় নয়।
ডিসেম্বর ৩০ তারিখে লেখা ওই চিঠিতে শাকাওস্কি ও অন্য মার্কিন সাংসদরা উমর খালিদের জামিন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে দ্রুত বিচারের আবেদন জানান। চিঠিতে দাবি করা হয়, খালিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের প্রমাণ দুর্বল। ডেমোক্র্যাট সাংসদ জিম ম্যাকগভর্ন জানান, তিনি সম্প্রতি খালিদের বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বিজেপির মতে, এই ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ একটি সুপরিকল্পিত ‘ভারত-বিরোধী প্রচার’-এর অংশ, যার সঙ্গে রাহুল গান্ধীর আন্তর্জাতিক সফর ও বৈঠকগুলির যোগ রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেস বা রাহুল গান্ধীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রসঙ্গত, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন স্কলার উমর খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ ওঠে, ওই দাঙ্গার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে UAPA ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। যদিও একটি মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে মুক্তি দিয়েছিল, তবে অন্য একটি মামলায় এখনও তিনি জেলবন্দি। একাধিকবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে।