সরকারি কলেজেও এমন হয়! ছাত্রীর রেকর্ড করা ভিডিও দেখে অবাক পরিবারের মানুষজন।

হাসপাতালে ওই ছাত্রীর শেষ সময়
শেষ আপডেট: 2 January 2026 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মশালার (Dharamshala) একটি সরকারি কলেজে (Government Degree College) দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হিমাচল প্রদেশজুড়ে। র্যাগিং (ragging) ও যৌন হেনস্থার (sexual assault) অভিযোগে তিন ছাত্রী ও এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও নির্যাতনের জেরেই ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েছিলেন ওই ছাত্রী। মৃত্যুর আগে মোবাইলে রেকর্ড করা একটি ভিডিও সামনে আসার পরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
মৃত ছাত্রীটি ধর্মশালার সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কলেজে নির্মম র্যাগিংয়ের শিকার হন তিনি। মৃত ছাত্রীর বাবা পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে জানান, কলেজের তিন ছাত্রী, হর্ষিতা (Harshita), আকৃতি (Akriti) ও কমলিকা (Komolika) তাঁর মেয়েকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন এবং মুখ বন্ধ রাখার হুমকি দেন। সেই অভিযোগেই প্রথমে র্যাগিংয়ের মামলা দায়ের হয়।
কিন্তু বিষয়টি আরও ভয়াবহ আকার নেয় মৃত্যুর আগে ছাত্রীর রেকর্ড করা ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর। সেই ভিডিওতে তিনি কলেজের এক অধ্যাপক অশোক কুমারের (Ashok Kumar) বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন হেনস্থা ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। ছাত্রীর দাবি, অধ্যাপক তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করতেন এবং ক্লাসরুম ও কলেজ চত্বরে নিয়মিত মানসিক হেনস্থা চালাতেন। প্রতিবাদ করলেই চুপ থাকতে হুমকি দেওয়া হত।
মৃত ছাত্রীর বাবা জানান, অধ্যাপকের এই আচরণের জেরে তাঁর মেয়ে তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। পরিবারের দাবি, এই মানসিক ট্রমার কারণেই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান। চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ২৬ ডিসেম্বর লুধিয়ানার (Ludhiana) ডিএমসি হাসপাতালে (DMC Hospital) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ছাত্রীটির।
পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, মেয়ের মৃত্যুর ধাক্কায় তাঁরা প্রথমে অভিযোগ জানাতে পারেননি। কিন্তু মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ভিডিও হাতে আসার পরই তাঁরা মুখ খুলতে বাধ্য হন। ছাত্রীর বাবা জানান, তিনি ২০ ডিসেম্বর পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি।
পুলিশ আধিকারিক অশোক রতন (Ashok Rattan) জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) এবং হিমাচল প্রদেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (র্যাগিং প্রতিরোধ) আইন, ২০০৯ (Himachal Pradesh Educational Institutions – Prohibition of Ragging Act, 2009)-এর আওতায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুরুতে শুধুমাত্র র্যাগিংয়ের অভিযোগ নিয়েই তদন্ত চলছিল। কিন্তু অধ্যাপকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ছাত্রীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত হাসপাতালেও তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় কলেজ প্রশাসন নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলেছে। কলেজের অধ্যক্ষ রাকেশ পাঠানিয়া (Rakesh Pathania) দাবি করেছেন, ওই ছাত্রী প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য হওয়ার পরও দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন এবং কলেজে আগে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা দেননি।
তবে প্রশ্ন উঠছে, ভিডিওতে এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? ছাত্রীর মৃত্যুর পরই কি নড়ল প্রশাসন? তদন্তে সেই সব প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।