অমরনাথ মৃত স্ত্রীর শাড়ি দিয়েই একে একে পাঁচ সন্তানের গলায় ফাঁস লাগিয়ে দেন। পরে নিজেও গলায় দড়ি পরেন। সব শেষে ট্রাঙ্ক থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন মেয়ে ও বাবার

বিহার ট্র্যাজেডি!
শেষ আপডেট: 15 December 2025 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ নাবালক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক বাবা। বিহারের মুজফফরপুরের মর্মান্তিক এই ঘটনায় (Bihar family tragedy) তিন মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। দুই ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে হাসপাতালে। মৃত্যু হয়েছে বাবারও। কী কারণে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন ওই ব্যক্তি (Muzaffarpur incident), তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম অমরনাথ রাম, বয়স ৩৫ বছর। রবিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎ নিজের পাঁচ সন্তানকে ডাকেন। বাবার ডাকে তিন মেয়ে ও দুই ছেলে ঘরে আসে। এরপর অমরনাথ একটি লোহার ট্রাঙ্ক ঘরের এক উঁচু জায়গায় রেখে তার উপর সন্তানদের লাইন করে দাঁড়াতে বলেন। শিশুরা বাবার কথা মতোই কাজ করে।
অভিযোগ, এরপর অমরনাথ মৃত স্ত্রীর শাড়ি দিয়েই একে একে পাঁচ সন্তানের গলায় ফাঁস লাগিয়ে দেন। পরে নিজেও গলায় দড়ি পরেন। সব শেষে ট্রাঙ্ক থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন মেয়ে ও বাবার (father attempts murder-suicide)। সোমবার সকালে বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মৃত তিন মেয়ের নাম অনুরাধা কুমারী (১২), শিবানী কুমারী (১১) এবং রাধিকা কুমারী (৭)। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে দুই ছেলেকে। তাদের মধ্যে একজন কোনওভাবে গলার ফাঁস খুলে ফেলে। অন্য জনও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছে। দু’জনেরই শারীরিক ও মানসিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এক নাবালক জানিয়েছে, ঘটনার সময় বাড়িতে সবাই ছিল। বাবা বাথরুমে গিয়ে ফিরে এসে হঠাৎ মায়ের শাড়ি নিয়ে আসে। এরপর কোনও কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সবার গলায় ফাঁস পরিয়ে দেয়। কাঁপা গলায় বলে, কী ভাবে সে বেঁচে গেল, তা সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারছে না।
পুলিশ চারটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অমরনাথ। জানা গিয়েছে, গত বছর তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, আর্থিক সমস্যাও ছিল তাঁর। একা হাতে পাঁচ সন্তানকে কীভাবে মানুষ করবেন, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
তবে এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুই নাবালকের বক্তব্য থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে (Bihar family tragedy)। নমুনা সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে গেছে ফরেন্সিক দল। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা রুজু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।