পাটনার রাস্তায় অচেতন সিআইএসএফ জওয়ানকে সিপিআর দিয়ে বাঁচালেন ট্র্যাফিক পুলিশ। ভাইরাল ভিডিও দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটপাড়া।

সিপিআর দেওয়ার মুহূর্ত
শেষ আপডেট: 24 March 2026 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনার (Patna) ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন সিআইএসএফ (CISF) জওয়ান। শ্বাসকষ্টে (breathing difficulty) ধুঁকতে ধুঁকতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি দেখে। প্রথমে বুঝতেই পারেনি কেউ কী হচ্ছে। তাঁকেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন বিহার পুলিশের (Bihar Police) এক ট্রাফিক কনস্টেবল। সিপিআর (CPR) প্রয়োগ করে। সেই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল।
বিহার পুলিশ (Bihar Police) নিজেদের এক্স (X)-হ্যান্ডলে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মিঠাপুর বাইপাস (Mithapur Bypass) এলাকায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অচেতন (unconscious) অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা ওই জওয়ানকে বাঁচাতে দ্রুত উদ্যোগ নেন এক ট্রাফিক কনস্টেবল। তিনি নিয়ম মেনে বুকের উপর চাপ (chest compressions) দিতে শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সাড়া মেলে—ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান ওই জওয়ান।
#BiharPolice सदैव आपके साथ
हर संकट में आपके साथ, हर परिस्थिति में आपके लिए समर्पित।
आपकी सुरक्षा, हमारी सर्वोच्च प्राथमिकता।
.
.#HainTaiyaarHum #janpolice #humanityfirst #bihar @BiharHomeDept @IPRDBihar pic.twitter.com/Oh1hWIVI70— Bihar Police (@bihar_police) March 22, 2026
এরপর ওই পুলিশকর্মী ও এক পথচারী মিলে তাঁকে উঠতে সাহায্য করেন। শরীরে উষ্ণতা ফেরাতে পা ঘষে দেওয়া হয়। দ্রুততার সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপ করার ফলেই বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভিডিওর ক্যাপশনে বিহার পুলিশ (Bihar Police) লিখেছে, “সবসময় আপনাদের সঙ্গে। প্রতিটি সংকটে পাশে, প্রতিটি পরিস্থিতিতে নিবেদিত। আপনাদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটমাধ্যমে প্রশংসার ঝড়। অনেকেই ওই কনস্টেবলকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। কেউ লিখেছেন, “হ্যাটস অফ, এভাবেই কাজ চালিয়ে যান।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “সিপিআর (CPR)-এর সঠিক পদ্ধতি স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলকভাবে শেখানো উচিত।”
চিকিৎসকদের মতে, সিপিআর (CPR) বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (Cardiopulmonary Resuscitation) হল এমন একটি জরুরি পদ্ধতি, যা হৃদযন্ত্র (heart) ও শ্বাসপ্রশ্বাস (breathing) সাময়িকভাবে সচল রাখতে সাহায্য করে। এতে বুকের উপর নির্দিষ্ট ছন্দে চাপ দেওয়া হয়, প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাস (rescue breathing) দেওয়া হয়—যতক্ষণ না চিকিৎসা সাহায্য (medical help) পৌঁছচ্ছে।
১৯৫০-এর দশকে (1950s) এই পদ্ধতির বিকাশ হয় এবং বর্তমানে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (American Heart Association)-সহ বিভিন্ন সংস্থা এর গাইডলাইন নির্ধারণ করে। সাধারণত হৃদরোগে (heart attack), ডুবে যাওয়া (drowning) বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (electrocution) হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
পাটনার এই ঘটনাই আবার মনে করিয়ে দিল—ঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আর সামান্য প্রশিক্ষণই বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ।