Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য করতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

জীবনরক্ষার পাঠ এবার ক্লাসরুমে! উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসে সিপিআর পদ্ধতি

 সময়মতো চাপ দেওয়া হাতটাই ফিরিয়ে দিতে পারে এক সম্পূর্ণ জীবন!

জীবনরক্ষার পাঠ এবার ক্লাসরুমে! উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসে সিপিআর পদ্ধতি

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 23 October 2025 15:03

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার এক জন্মদিনের পার্টি। আলো, গান, নাচে মেতে উঠেছেন সকলে। আনন্দের ঢেউ এমনই উচ্ছ্বল যে সময় যেন থমকে গেছে। কিন্তু হঠাৎই তাল কেটে যায়—বুকে হাত রেখে ধপাস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এক অতিথি! আতঙ্কে কেউ চিৎকার, কেউ জল ছিটিয়ে দেন, কেউ আবার ফোন করেন অ্যাম্বুল্যান্সে। কিন্তু এর মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সব। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

এমন দৃশ্য আজকাল অচেনা নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় মাঝেমধ্যেই ভেসে ওঠে এমনই মর্মান্তিক খবর—মঞ্চে গায়ক, মাঠে খেলোয়াড়, কিংবা অফিসের মিটিংয়ে সহকর্মী—হঠাৎ থেমে যায় প্রাণের ছন্দ। অথচ একটু সঠিক সময়ে দেওয়া সিপিআর (Cardiopulmonary Resuscitation) হয়তো ফিরিয়ে আনতে পারত হারিয়ে যাওয়া জীবন।

এই বাস্তবতাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে শিক্ষাবিদদের। তাই এবার উচ্চমাধ্যমিকের স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা পাঠক্রমে জায়গা পাচ্ছে সিপিআর এবং জীবন বাঁচানোর অন্যান্য তাৎক্ষণিক পদ্ধতি। তৃতীয় সেমেস্টারের বইয়ে থাকছে—কেউ জলে ডুবে গেলে, শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গেলে বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে কীভাবে সামলাতে হবে সেই নির্দেশিকা।

শুধু বইয়ে নয়, হাতেকলমে শেখানোই হবে মূল চাবিকাঠি, বলছেন শিক্ষকরা। যেমন, মাঠপুকুরের সুনীল যাদব—একজন ড্রাইভার। বড় পড়াশোনা হয়নি, কিন্তু এক সিপিআর কর্মশালায় শেখা কৌশলেই একদিন প্রতিবেশী বৃদ্ধের জীবন বাঁচিয়েছিলেন তিনি। “ওই কয়েকটা মিনিটেই সব নির্ভর করছিল,” বলছেন সুনীল, “যা শিখেছিলাম, সেটাই কাজে লাগালাম।”

সিপিআরের খুঁটিনাটি এবার বইয়েও স্পষ্টভাবে থাকবে, পাঠ্যক্রম অনুযায়ী—
অজ্ঞান হয়ে গেলে গলার পাশে ক্যারোটিড ধমনি স্পর্শ করে বুঝতে হবে হৃদযন্ত্র সচল কি না। শ্বাস না থাকলে মুখে মুখে ফুঁ দিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার সঙ্গে বুকে চাপ দিতে হবে মিনিটে অন্তত ১০০ বার। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দু’হাতের জোরে, শিশুদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক নরমভাবে। আক্রান্তের কৃত্রিম দাঁত থাকলে আগে খুলে ফেলতে হবে।

সঙ্গে থাকছে হেইমলিচ ম্যানুভার, যখন খাবার আটকে যায় গলায়, কথা বন্ধ হয়ে আসে, তখন পিছন থেকে আক্রান্তকে জড়িয়ে পেটে পাঁচবার জোরে চাপ দিলে বেরিয়ে যেতে পারে আটকে থাকা খাদ্য। শিশুর ক্ষেত্রে আবার পিঠে চাপড় দেওয়াই কার্যকর।

সিলেবাস প্রণেতাদের কথায়, “জীবন বাঁচানোর এই পাঠ শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বাস্তবের জন্য।” তাঁদের মতে, আজ হয়তো একটি স্কুলের ক্লাসরুমে শেখানো হচ্ছে, কিন্তু কাল সেই জ্ঞান হয়তো কারও শ্বাস, কারও হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে দেবে।

জীবনের পাঠ এখন পাঠ্যবইয়ে — কারণ সময়মতো চাপ দেওয়া হাতটাই ফিরিয়ে দিতে পারে এক সম্পূর্ণ জীবন!


```