সময়মতো চাপ দেওয়া হাতটাই ফিরিয়ে দিতে পারে এক সম্পূর্ণ জীবন!

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 23 October 2025 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার এক জন্মদিনের পার্টি। আলো, গান, নাচে মেতে উঠেছেন সকলে। আনন্দের ঢেউ এমনই উচ্ছ্বল যে সময় যেন থমকে গেছে। কিন্তু হঠাৎই তাল কেটে যায়—বুকে হাত রেখে ধপাস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এক অতিথি! আতঙ্কে কেউ চিৎকার, কেউ জল ছিটিয়ে দেন, কেউ আবার ফোন করেন অ্যাম্বুল্যান্সে। কিন্তু এর মধ্যেই শেষ হয়ে যায় সব। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।
এমন দৃশ্য আজকাল অচেনা নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় মাঝেমধ্যেই ভেসে ওঠে এমনই মর্মান্তিক খবর—মঞ্চে গায়ক, মাঠে খেলোয়াড়, কিংবা অফিসের মিটিংয়ে সহকর্মী—হঠাৎ থেমে যায় প্রাণের ছন্দ। অথচ একটু সঠিক সময়ে দেওয়া সিপিআর (Cardiopulmonary Resuscitation) হয়তো ফিরিয়ে আনতে পারত হারিয়ে যাওয়া জীবন।
এই বাস্তবতাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে শিক্ষাবিদদের। তাই এবার উচ্চমাধ্যমিকের স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা পাঠক্রমে জায়গা পাচ্ছে সিপিআর এবং জীবন বাঁচানোর অন্যান্য তাৎক্ষণিক পদ্ধতি। তৃতীয় সেমেস্টারের বইয়ে থাকছে—কেউ জলে ডুবে গেলে, শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গেলে বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে কীভাবে সামলাতে হবে সেই নির্দেশিকা।
শুধু বইয়ে নয়, হাতেকলমে শেখানোই হবে মূল চাবিকাঠি, বলছেন শিক্ষকরা। যেমন, মাঠপুকুরের সুনীল যাদব—একজন ড্রাইভার। বড় পড়াশোনা হয়নি, কিন্তু এক সিপিআর কর্মশালায় শেখা কৌশলেই একদিন প্রতিবেশী বৃদ্ধের জীবন বাঁচিয়েছিলেন তিনি। “ওই কয়েকটা মিনিটেই সব নির্ভর করছিল,” বলছেন সুনীল, “যা শিখেছিলাম, সেটাই কাজে লাগালাম।”
সিপিআরের খুঁটিনাটি এবার বইয়েও স্পষ্টভাবে থাকবে, পাঠ্যক্রম অনুযায়ী—
অজ্ঞান হয়ে গেলে গলার পাশে ক্যারোটিড ধমনি স্পর্শ করে বুঝতে হবে হৃদযন্ত্র সচল কি না। শ্বাস না থাকলে মুখে মুখে ফুঁ দিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার সঙ্গে বুকে চাপ দিতে হবে মিনিটে অন্তত ১০০ বার। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দু’হাতের জোরে, শিশুদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক নরমভাবে। আক্রান্তের কৃত্রিম দাঁত থাকলে আগে খুলে ফেলতে হবে।
সঙ্গে থাকছে হেইমলিচ ম্যানুভার, যখন খাবার আটকে যায় গলায়, কথা বন্ধ হয়ে আসে, তখন পিছন থেকে আক্রান্তকে জড়িয়ে পেটে পাঁচবার জোরে চাপ দিলে বেরিয়ে যেতে পারে আটকে থাকা খাদ্য। শিশুর ক্ষেত্রে আবার পিঠে চাপড় দেওয়াই কার্যকর।
সিলেবাস প্রণেতাদের কথায়, “জীবন বাঁচানোর এই পাঠ শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বাস্তবের জন্য।” তাঁদের মতে, আজ হয়তো একটি স্কুলের ক্লাসরুমে শেখানো হচ্ছে, কিন্তু কাল সেই জ্ঞান হয়তো কারও শ্বাস, কারও হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে দেবে।
জীবনের পাঠ এখন পাঠ্যবইয়ে — কারণ সময়মতো চাপ দেওয়া হাতটাই ফিরিয়ে দিতে পারে এক সম্পূর্ণ জীবন!