কাটা হাত নিয়ে হেঁটে হেঁটে নিজের রাজ্য বিহারে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বেরিয়েছিল ওই কিশোর। প্রায় ১৫০ কিমি হাঁটার পর অবশেষে নুহ জেলার তাউরু এলাকায় এক সরকারি স্কুলশিক্ষকের চোখে পড়ে সে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 August 2025 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার (Haryana) জিন্দ জেলার একটি দুধের খামারে আটকে রেখে জোর করে খাটানো হচ্ছিল ১৫ বছরের এক কিশোরকে (Teenager)। অভিযোগ, একটি ঘাস কাটার যন্ত্রে হাত কেটে যাওয়ার পরও সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অজ্ঞান করে তাঁকে ফেলে রাখা হয় একটি ছোট ডিসপেনসারিতে। সেখান থেকেই হাত কাটা (Severed Arm) অবস্থায় পালিয়ে কোনও রকমে বেঁচেছে সে।
কাটা হাত নিয়ে হেঁটে হেঁটে নিজের রাজ্য বিহারে (Bihar) যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বেরিয়েছিল ওই কিশোর। প্রায় ১৫০ কিমি হাঁটার পর অবশেষে নুহ জেলার তাউরু এলাকায় এক সরকারি স্কুলশিক্ষকের চোখে পড়ে সে। তার পর পুলিশের সহায়তায় তাকে ভর্তি হয় পিজিআইএমএস রোহতকে। অস্ত্রোপচারে কাটা হয় হাতের বাকি অংশও।
বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার ওই কিশোরের পরিবারের দাবি, তাঁকে প্রতারণা করে কাজে লাগানো হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল মাসে ১০ হাজার টাকা মজুরি, কিন্তু বাস্তবে তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে খাটানো হয়। খাবারও জোটেনি ঠিকমতো।
কিশোর জানায়, একটি মোটরচালিত মেশিনে ঘাস কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তার পর তাকে দেওয়া হয় এমন ওষুধ, যাতে সে অচেতন হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরতেই দেখে, এক ছোট ডিসপেনসারিতে রয়েছে সে, হাতে সামান্য কিছু টাকা। কিন্তু ফের ঘুম ভাঙতেই দেখে টাকাও নেই, জামাকাপড়ও গায়েব। অভিযোগ, ডিসপেনসারির এক কর্মী তাকে বেরিয়ে যেতে বলেন।
বিহারে ফিরতে চেয়ে হাজার কিমির পথ হাঁটতে শুরু করে কিশোর। তাউরুতে এক সরকারি স্কুলের দুই শিক্ষক তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান থানায়। পুলিশ এক সদস্য তাকে নিজের জামাকাপড় দেয়, চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন।
পরে কিশোরের পরিবার, যারা কাইথাল জেলায় দিনমজুরের কাজ করেন, এসে পৌঁছন এবং তাকে রোহতকের পিজিআইএমএস-এ ভর্তি করান। বুধবার অস্ত্রোপচারে তার কাটা হাতের অবশিষ্ট অংশও বাদ দেওয়া হয়। এখন সে স্থিতিশীল।
নুহ পুলিশের মুখপাত্র কৃষ্ণ কুমার জানান, শুরুতে জিরো এফআইআর-এর বিষয়টি ভাবা হলেও, পরিবারের আর্থিক সঙ্কট থাকায় তাঁরা মামলা করতে অস্বীকার করেন। কিশোরের দাদা জিতেন্দ্র কুমার বলেন, ‘‘আমার ভাইয়ের হাত কাটা গেছে। আমরা রোহতকে খুব কষ্টে রয়েছি। মামলা করব, কিন্তু আগে জরুরি সাহায্য চাই। চিকিৎসা চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি।’’
এক এনজিও সদস্য জানান, তাঁরা মামলা দায়েরের চেষ্টা করছেন, তবে পরিবার জানিয়েছে, আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে একটু স্বস্তিতে ফিরতে চান।