বিহারের হস্টেলে ৫ বছরের শিশুর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। যৌন নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার অভিযোগে উত্তাল এলাকা, গ্রেফতার প্রিন্সিপাল।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 April 2026 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে মর্মান্তিক ঘটনা। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে শেষ হয়ে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণ। পাটনা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে জেহানাবাদের এক গুরুকুলে পড়তে গিয়েছিল ৫ বছরের আশু। গত ১ এপ্রিল মা তাকে হস্টেলে রেখে এসেছিলেন। আর ৬ এপ্রিল মিলল নিথর দেহ। শুধু মৃত্যু নয়, অভিযোগ উঠেছে নারকীয় যৌন নির্যাতনের (child Sexual Abuse)।
নিহত শিশুর বাবা অজয় কুমার শর্মা জানিয়েছেন, ৬ তারিখ ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ গুরুকুল হস্টেলের ডিরেক্টর তথা প্রিন্সিপাল তরুণ কুমার ফোন করে জানান যে শিশুটি অত্যন্ত অসুস্থ। তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছন বাবা। সেখানে আইসিইউ-তে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে দেখে শিউরে ওঠেন তিনি। এফআইআর অনুযায়ী, ওই একরত্তি শিশুর গলা চেরা ছিল, যৌনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এছাড়া পেটের বাম দিক, গাল ও ভ্রুর নীচে ছিল গভীর ক্ষত। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার কোপানো হয়েছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে নৃশংসভাবে যৌন হেনস্থা ও গণধর্ষণ (Gang Rape) করা হয়েছে।
আশুর বড় দাদা ঋষুও ওই একই স্কুলের হস্টেলে থাকত। সে জানিয়েছে, ঘটনার রাতে প্রিন্সিপাল আশুকে নিজের ঘরে শুতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই সকালে এই বিপত্তি ঘটে। পাটনার একটি মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত (Dead) বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিশুর মৃতদেহ নিয়ে পাটনা-গয়া জাতীয় সড়ক-২২ অবরোধ করেন পরিজন ও গ্রামবাসীরা। দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে থাকে। কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়।
ইতিমধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল তরুণ কুমারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একজন শিক্ষক ও দুই মহিলা কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক করা হয়েছে স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীকেও। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইন ও খুনের মামলা রুজু হয়েছে। স্কুলটি আপাতত সিল করে দিয়েছে প্রশাসন। একরত্তির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কার্যত স্তব্ধ গোটা এলাকা। পরিজনদের একটাই দাবি, বিচার চাই।