প্রেম করে বিয়ে করায় মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে। অন্ধ্রপ্রদেশের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত এক আত্মীয়ও, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

তরুণী ও অভিযুক্ত আধিকারিক
শেষ আপডেট: 5 April 2026 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেম করে বিয়ে, এই ‘অপরাধে’ আত্মীয়ের সঙ্গে মিলে তরুণীকে মেরে ফেললেন তাঁর বাবা। ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) মাচারলা (Macherla) শহরের। খুনের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা বলে চালানো হয় কিন্তু শেষে ধরে ফেলে পুলিশ। যদিও ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকাও উঠে এসেছে, যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য।
মৃত তরুণী চৌদেশ্বরী (Chowdeshwari) একটি সম্পর্কে (Relationship) জড়িত ছিলেন, যা তাঁর পরিবার মানতে পারেনি। গত ৪ মার্চ বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিককে বিয়ে (Marriage) করেন তিনি। পরিবারের তরফে তরুণীকে খুঁজতে নিখোঁজ (Missing Complaint) ডায়েরি করা হয়, শুরু হয় খোঁজ।
১৫ মার্চ মাচারলা টাউন সার্কেল ইন্সপেক্টর (Circle Inspector) ওই দম্পতিকে খুঁজে বার করেন। অভিযোগ, ওই পুলিশ আধিকারিক তরুণীকে ভয় দেখিয়ে জোর করে (Forced Return) তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।
এর ঠিক তিন দিন পর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় চৌদেশ্বরীর দেহ (Dead Body)। প্রথমে পরিবারের দাবি ছিল, তিনি আত্মহত্যা করেছেন কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (Post-mortem Report) সামনে আসার পর পুরো চিত্রটাই বদলে যায়। চিকিৎসকরা জানান, ঘুমন্ত অবস্থায় বালিশ (Pillow) চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ (Suffocation) করে খুন করা হয়েছে তাঁকে।
তদন্তে নেমে পুলিশ (Police Investigation) গ্রেফতার করেছে চৌদেশ্বরীর বাবা চন্দ্রশ্রীনু (Chandrasreenu) এবং এক আত্মীয়কে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, পরিবারের ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে করায় রাগের বশেই এই খুন (Murder)।
এতেই শেষ নয়, তদন্তে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। জানা যায়, ওই আধিকারিক অর্থাৎ সার্কেল ইন্সপেক্টর ঘুষ (Bribe) নিয়েছেন। দাবি, তিনি চৌদেশ্বরীর পরিবারকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলেন এবং ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Bank Records) খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন বা নগদ তোলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ওই পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড (Suspended) করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy), ঘুষ নেওয়া এবং প্রমাণ নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। সকলের এখন একটাই প্রশ্ন প্রেম করে বিয়ে কি এখনও এত বড় ‘অপরাধ’?