স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে খুন। বিশেষ দল গড়ে কিনারা করল পুলিশ।

প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে তৈরি)
শেষ আপডেট: 5 April 2026 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্ধদগ্ধ দেহ, নিখোঁজ ডায়েরি আর মদের বোতলের কিউআর কোড—এই তিন সূত্রেই ফাঁস হল এক নৃশংস খুনের রহস্য। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার সাইয়ন এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার তিনজন।
১ এপ্রিল রাতে ওই এলাকায় একটি অর্ধদগ্ধ দেহ (Half-Burnt Body) উদ্ধার হয়। মুখ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে হাতের উল্কি (Tattoo) থেকে ‘লোকেন্দ্র’ (Lokendra) নামটি স্পষ্ট ছিল। পরদিন তাঁর ভাই থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (Missing Complaint) দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ ছিল, শেষবার লোকেন্দ্রকে মহেশ প্রজাপতি (Mahesh Prajapati)-র সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
তদন্তে নামে পুলিশ (Police Investigation)। পাঁচটি দল গঠন করে শুরু হয় খোঁজখবর। সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) খতিয়ে দেখা হয়, পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য (Technical Evidence) ব্যবহার করে এগোয় তদন্ত। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় মদের বোতল (Liquor Bottles) ও কিছু কাগজের টুকরো—যা পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
শেষমেশ পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় লোকেন্দ্রর স্ত্রী, মহেশ প্রজাপতি এবং তাঁর বন্ধু ধরমবীরকে। জেরায় সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের কাছে মহেশ স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই লোকেন্দ্রর স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে স্ত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন লোকেন্দ্র। এরপরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে প্রেমিক-প্রেমিকা।
ঘটনার দিন, ১ এপ্রিল, লোকেন্দ্র বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তাঁর স্ত্রী ফোনে মহেশকে খবর দেন। পথে দেখা করে মহেশ তাঁকে মদ্যপানের (Drinking) প্রস্তাব দেয়। পরিচিত হওয়ায় রাজি হন লোকেন্দ্র। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় ধরমবীর। একটি মাঠে বসে মদ ও খাবার খাওয়ার সময় মহেশ ও ধরমবীর মিলে শ্বাসরোধ (Choking) করে অজ্ঞান করে দেয় লোকেন্দ্রকে। এরপর দেহে পেট্রল (Petrol) ঢেলে গমের আঁটি (Wheat Bales) দিয়ে ঢেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ওয়েস্ট আগ্রার ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP West Agra) আদিত্য কুমার (Aditya Kumar) জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া কাগজের টুকরো স্থানীয় এক ফল বিক্রেতার ব্যবহৃত বলে জানা যায়। পাশাপাশি মদের বোতলের কিউআর কোড (QR Code) সূত্রে সিসিটিভি ঘেঁটে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে (Court) পেশ করেছি। দ্রুত তদন্তে সাফল্যের জন্য পুলিশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আধিকারিকরা।