শনিবার মালদহে তিনটি জনসভা ছিল তৃণমূল নেত্রীর। মানিকচকের সভা সেরে দ্বিতীয় গন্তব্য মালতীপুরে পৌঁছন তিনি। সেখানে নির্ধারিত নির্বাচনী সভা শেষ করে যখন গাজোলের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন, তখনই ঘটে এই বিপত্তি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 April 2026 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ভেঙে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের সামনে উড়ে এল রহস্যময় ড্রোন। শনিবার দুপুরে মালদহের মালতীপুরে মমতার হেলিকপ্টার (Mamata Banerjee Helicopter) যখন ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল প্রশাসনিক মহলে। কপ্টারে ওঠার মুখে ড্রোনটি দেখে থমকে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। রীতিমতো ক্ষোভের সুরে পুলিশকে তিনি বলেন, “পুলিশের এটা নজরে রাখা দরকার। যারা এটা করেছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করতে হবে।” এর পরপরই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গিয়েছে, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অনিচ্ছাকৃত খুন, মিথ্যে বিবৃতি, এই তিন ধারায় এফআইআর করা হয়েছে। যদিও, এই তিন জনের কাছে বৈধ কাগজ ছিল। কার্ড ছিল। কিন্তু কেন তাঁরা নিরাপত্তার কথা না ভেবে এমন কাজ করেছেন, তার জবাব খুঁজছে পুলিশ।
শনিবার মালদহে তিনটি জনসভা ছিল তৃণমূল নেত্রীর। মানিকচকের সভা সেরে দ্বিতীয় গন্তব্য মালতীপুরে পৌঁছন তিনি। সেখানে নির্ধারিত নির্বাচনী সভা শেষ করে যখন গাজোলের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন, তখনই ঘটে এই বিপত্তি।
হেলিপ্যাডের একেবারে কাছে, কপ্টারের উপরে একটি ড্রোনকে উড়তে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ এই ড্রোন উড়িয়েছেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরেই তড়িঘড়ি তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। তবে নির্বাচনী আবহে হাই-প্রোফাইল নেত্রীর ভিভিআইপি নিরাপত্তা বলয়ে এই ভাবে ড্রোন ঢুকে পড়ায় গোয়েন্দা বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।
মুখ্যমন্ত্রীর আকাশপথের যাত্রা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন আগেই দুবরাজপুরে সভা সেরে কলকাতা ফেরার পথে প্রবল দুর্যোগের মুখে পড়েছিল মমতার বিমান। প্রায় ৭০ মিনিট ধরে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটার পর দমদম ও বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে তিন-তিন বার অবতরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল পাইলট। শেষমেশ চরম উৎকণ্ঠার পর দমদম বিমানবন্দরে নামে সেই বিমান।
মমতার ভোটের প্রচার এখন তুঙ্গে। এমন অবস্থায় এ দিনের ড্রোন রহস্য কেবল নিরাপত্তা আধিকারিকদের রক্তচাপই বাড়ায়নি, বরং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের এত কাছে ড্রোন ওড়ানোর অনুমতি কার ছিল, বা আদৌ ছিল কি না— এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।