স্কুলের মতো এক নিরাপদ স্থানে ৫ বছরের শিশুর সঙ্গে এই ধরণের পৈশাচিক আচরণ গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও হস্টেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে। দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ।

উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত ধারাল ব্লেডটিও
শেষ আপডেট: 11 April 2026 18:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের জেহানাবাদে এক পাঁচ বছরের শিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ (Bihar child rape and murder case)। স্কুলের হস্টেল চত্বরেই ছোট্ট ওই শিশুকে যৌন নির্যাতনের পর ব্লেড দিয়ে তার গলা কেটে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই হাড়হিম করা ঘটনায় হস্টেলের ক্যান্টিন গার্ড মুকেশ ওরফে সুদামাকে (৪৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে খুনে ব্যবহৃত ধারাল ব্লেডটিও (school guard abuse boy Bihar)।
আক্রোশ থেকেই কি এই নৃশংসতা?
পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে অভিযুক্ত মুকেশের অদ্ভুত সব যুক্তি। জেহানাবাদের পুলিশ সুপার অপরাজিত লোহান জানিয়েছেন, মুকেশের স্ত্রী তাকে বহু বছর আগে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। হস্টেলের বাচ্চারা মাঝেমধ্যেই তাকে ‘নপুংসক’ বলে রাগাতো, যা নিয়ে তার মধ্যে চরম জেদ ও ক্ষোভ তৈরি হতে থাকে।
এছাড়া জানা গিয়েছে, হস্টেল মালিক তরুণ কুমারের সঙ্গেও তার বিবাদ ছিল। হস্টেলটি বন্ধ করে দেওয়ার এবং মালিককে বিপাকে ফেলার হুমকিও দিয়েছিল সে। সেই আক্রোশ মেটাতেই কি এই অবোধ শিশুকে বেছে নিল সে? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
কীভাবে ঘটল সেই নারকীয় ঘটনা?
তদন্তে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে ওই শিশুকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায় মুকেশ। সেখানে তার উপর পাশবিক যৌন নির্যাতন করার পর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ব্লেড দিয়ে বাচ্চাটির গলা কেটে ফেলে সে। এরপর রক্তাক্ত দেহটি হস্টেলের সিঁড়িতে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।
পরের দিন সকালে শিশুর বাবা খবর পান যে তাঁর ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, ছেলের গলা কাটা, শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত এবং গোপনাঙ্গ বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাটনার এক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি ব্যবস্থা ও পকসো মামলা
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ ইতিমধ্যেই ধর্ষণ, গণধর্ষণ (তদন্তের স্বার্থে ধার্য), খুন এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। হস্টেল মালিক তরুণ কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরায় ধৃত গার্ড মুকেশ নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, ঘটনার সময় সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল।
স্কুলের মতো এক নিরাপদ স্থানে ৫ বছরের শিশুর সঙ্গে এই ধরণের পৈশাচিক আচরণ গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও হস্টেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে। দোষীর কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ।