সবথেকে বড় চিন্তার বিষয় হল, নৌকার ৩০-৩৫ জন যাত্রীর মধ্যে একজনের গায়েও কোনও লাইফ জ্যাকেট ছিল না। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই এত জন মানুষকে নৌকায় তোলা হল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে।

আনন্দের সুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বদলে যায় আর্তনাদে
শেষ আপডেট: 11 April 2026 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃন্দাবনের যমুনা নদীতে প্রমোদভ্রমণে বেরিয়েছিলেন পাঞ্জাবের লুধিয়ানার ৩০ জনেরও বেশি পুণ্যার্থীদের একটি দল (pilgrims from Punjab Vrindavan accident)। নৌকায় বসে হাততালি দিতে দিতে জপছিলেন ‘রাধে রাধে’ নাম (Radhe Radhe chanting video Vrindavan boat tragedy)। কিন্তু সেই আনন্দের সুর যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্তনাদে পরিণত হবে (Vrindavan boat tragedy Yamuna river), তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
শুক্রবার বিকেলে বৃন্দাবনের কেশী ঘাটে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ১০ জনের। উদ্ধার করা হয়েছে আরও ২২ জনকে। দুর্ঘটনার ঠিক আগের একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যা দেখে শিউরে উঠছে গোটা দেশ।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে (সম্ভবত কোনও এক যাত্রীর মোবাইল থেকে নেওয়া, সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল) দেখা যাচ্ছে, নৌকায় ঠাসাঠাসি করে বসে আছেন পুণ্যার্থীরা। মুখে রাধেনাম আর চোখেমুখে প্রশান্তি। কিন্তু সবথেকে বড় চিন্তার বিষয় হল, নৌকার ৩০-৩৫ জন যাত্রীর মধ্যে একজনের গায়েও কোনও লাইফ জ্যাকেট ছিল না। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই এত জন মানুষকে নৌকায় তোলা হল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠছে।
কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়?
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে একটি পন্টুন ব্রিজ। যমুনার জলস্তর বাড়ার কারণে সম্প্রতি একটি ভাসমান লোহার ব্রিজ (পন্টুন) খুলে রাখা হয়েছিল। নদীর জোরালো হাওয়া ও স্রোতের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই ভাসমান ড্রামের ওপর আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পন্টুনের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলেই নৌকাটি উল্টে যায়।
লুধিয়ানার বাসিন্দা শ্বেত জৈন, যাঁর মা এই মুহূর্তে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন, তাঁর অভিযোগ, নৌকার মাঝি নিজেই নৌকা দিয়ে পন্টুনটিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, আর তাতেই ঘটে যায় এই বিপত্তি।
জানা গেছে, লুধিয়ানা এবং মুক্তসর জেলা থেকে ১৩২ জনের একটি বিশাল দল দুটি বাসে করে মথুরা-বৃন্দাবন দর্শনে এসেছিলেন। তাঁদেরই একাংশ কেশী ঘাটে নৌকাভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। মৃতদের অধিকাংশই লুধিয়ানার জগরাঁও শহরের বাসিন্দা। প্রিয়জনদের হারিয়ে এখন শোকস্তব্ধ পুণ্যার্থীদের পরিবার।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল এসে ২২ জনকে নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে পুণ্যার্থীদের অভিযোগ, নৌকাটি উল্টে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর সরকারি সাহায্য পৌঁছেছে। নদীর বুকে যেখানে মেরামতির কাজ চলছে, সেখানে কেন নৌচলাচলের অনুমতি দেওয়া হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ ও প্রশাসন।
যমুনার বুকে রাধেনাম জপতে জপতেই প্রাণ হারানো পুণ্যার্থীদের মৃত্যু একরাশ ক্ষোভ আর বিষাদ রেখে গেল তীর্থনগরীতে।