কিছুদিন আগেই দিল্লি (Delhi) ও নয়ডা (Noida) - এই দুই জায়গায় অবকাঠামোগত অব্যবস্থার জেরে আলাদা আলাদা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল এক বাইক আরোহী ও এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের। ফলে নতুন এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাগরিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হয়েছে।

শেষ আপডেট: 16 February 2026 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডা (Greater Noida) এলাকায় পুকুরে ডুবে মৃত্যু হল মাত্র তিন বছরের এক শিশুর (Greater Noida child drowning)। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ও অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে থাকা ওই জলাশয় নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি (urban negligence deaths)।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন এর কিছুদিন আগেই দিল্লি (Delhi) ও নয়ডা (Noida) - এই দুই জায়গায় অবকাঠামোগত অব্যবস্থার জেরে আলাদা আলাদা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল এক বাইক আরোহী (Delhi biker death falling in pit) ও এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের (Noida software engineer death drowning)। ফলে নতুন এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাগরিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরাল হয়েছে (civic negligence)।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম দেবাংশ। বাবা-মায়ের সঙ্গে সে গ্রামের বাড়ির কাছের একটি মন্দিরের ভোজে গিয়েছিল। কিছু সময় পরেই ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা মিলে চারদিকে খোঁজ শুরু করেন। তখনই সন্দেহ হয়, খেলতে খেলতে হয়তো শিশুটি পুকুরের দিকে চলে গিয়েছিল।
খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডুবুরিরা। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর কয়েক ঘণ্টা পর পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির দেহ। প্রাথমিক অনুমান, খেলতে গিয়ে পা পিছলে জলে পড়ে যায় সে।
পুকুর ঘিরে ক্ষোভ: ঘেরাটোপ বা রক্ষণাবেক্ষণের বালাই নেই
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই পুকুর বহু দশক ধরে পরিষ্কার করা হয়নি। চারপাশে সুরক্ষার জন্য কোনও বাউন্ডারি নেই। ফলে বিশেষত ছোটদের জন্য জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় থানার পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক গাফিলতির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক একই রকম দুর্ঘটনা, প্রশ্ন একটাই - নিরাপত্তা কোথায়?
শিশুমৃত্যুর এই ঘটনা একা নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনাও প্রশাসনিক অব্যবস্থার অভিযোগ সামনে এনে দিয়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম দিল্লির জনকপুরি এলাকায় দিল্লি জল বোর্ড (Delhi Jal Board)–এর একটি প্রকল্পের জন্য খোঁড়া চার মিটার গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু হয় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী কমল ধ্যানির। পরদিন সকালে গর্ত থেকে তাঁর দেহ ও মোটরবাইক উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, সুরক্ষা জাল বা আলোর ব্যবস্থা ছিল না। তদন্তে উঠে আসে, সাব–কন্ট্রাক্টরকে দুর্ঘটনার খবর পুলিশ জানার আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবু তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ।
এরও কয়েক সপ্তাহ আগে, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারির মাঝরাতে নির্মীয়মাণ এলাকায় জল জমা গর্তে গাড়ি পড়ে ডুবে মৃত্যু হয় ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার। ঘটনাটি ঘটে নয়ডার সেক্টর ১৫০ এলাকায়। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাহায্যের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সামনে দাঁড়িয়ে অসহায়ভাবে সব দেখেছিলেন তাঁর বাবা। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও উদ্ধারকারী দলে কোনও ডুবুরি ছিল না।
প্রশ্ন একটাই: অবহেলা নাকি দুর্ঘটনা?
একটির পর একটি ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এগুলো নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অপরিকল্পিত নাগরিক পরিকাঠামোর ফল।