পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জলভরা গর্তটি ২০২১ সালে একটি শপিং মলের বেসমেন্ট নির্মাণের জন্য খোঁড়া হয়েছিল।

মৃত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
শেষ আপডেট: 20 January 2026 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডার (Noida) সেক্টর ১৫০-তে জলভরা গর্তে গাড়ি পড়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (Software Engineer) যুবরাজ মেহতার (Yuvraj Mehta) মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হল নির্মাণকারী (Builder) সংস্থার এক কর্তা। মঙ্গলবার নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, উইশটাউন প্ল্যানার্স প্রাইভেট লিমিটেডের অন্যতম মালিক অভয় কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংস্থার অপর মালিক মনীশ কুমারের খোঁজে তল্লাশি চলছে (Noida Techie Death)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জলভরা গর্তটি ২০২১ সালে একটি শপিং মলের বেসমেন্ট নির্মাণের জন্য খোঁড়া হয়েছিল। প্রায় ২০ ফুট গভীর ওই গর্ত পরবর্তী বছর থেকেই জল জমে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে ছিল (Software Engineer Death)। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তা ঢেকে দেওয়া বা যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যুবরাজের বাবা অভিযোগ দায়ের করার পর উইশটাউন প্ল্যানার্স এবং লোটাস গ্রিন্সের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়। যদিও লোটাস গ্রিন্স দাবি করেছে, তারা ২০১৯-২০ সালেই প্রকল্পটি নয়ডা অথরিটির অনুমোদন নিয়ে উইশটাউন প্ল্যানার্স ও গৃহপ্রবেশ গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।
ঘটনার জেরে প্রশাসনিক স্তরেও বড়সড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। সোমবার উত্তরপ্রদেশ সরকার নয়ডা অথরিটির সিইও লোকেশ এম-কে সরিয়ে দেয় এবং মৃত্যুর তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেয়। এর আগের দিনই লোকেশ এম সেক্টর ১৫০-তে রাস্তা ও যান চলাচল সংক্রান্ত কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করেন এবং অন্য আধিকারিকদের শোকজ করেন।
শনিবার ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে নিজের আবাসনের দিকে মোড় নিতে গিয়ে যুবরাজের গ্র্যান্ড ভিটারাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই গর্তে পড়ে যায়। রাস্তা ও গর্তের মাঝখানে একটি নর্দমা ও দু’টি ব্যারিকেড থাকলেও, গাড়িটি সেগুলি টপকে বা ভেঙে জলভরা গর্তে পড়ে বলে পুলিশের অনুমান। সাঁতার না জানা যুবরাজ প্রায় দেড় ঘণ্টা জীবিত ছিলেন। ফোন পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তাঁর বাবা। পরে পুলিশ, দমকল ও এসডিআরএফ আসে। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে তল্লাশি ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত যুবরাজের মৃত্যু হয়।
এই গর্ত যে আগেও বিপজ্জনক ছিল, তার ইঙ্গিত মিলেছে অন্য একটি ঘটনায়ও। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাকচালক গুরবিন্দর সিংহ ওই জায়গায় ব্যারিকেডে ধাক্কা মারেন। অল্পের জন্য তাঁর ট্রাক গর্তে পড়েনি। তিনি জানান, রাস্তার একেবারে কাছে থাকা নর্দমা ও গর্তের সামনে কোনও সতর্কতামূলক বোর্ড বা পর্যাপ্ত ব্যারিকেড ছিল না।
এই ঘটনার পর নির্মাণ সংস্থা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত এগোলে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই মনে করছে পুলিশ।