উল্লেখ ছিল, প্রস্তাবিত কাজের জন্য বাজেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই চিঠি গুরুত্বই পায়নি। নয়ডা অথরিটির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনও চিঠির অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগতই নন।

মৃত আইটি কর্মী
শেষ আপডেট: 20 January 2026 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডার (Noida Incident) সেক্টর ১৫০-তে আবর্জনার একটি গর্তে পড়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মর্মান্তিক মৃত্যুর (IT Worker Yuvraj Mehta Death) ঘটনায় নতুন করে সামনে এল প্রশাসনিক গাফিলতির ছবি। জানা যাচ্ছে, এই দুর্ঘটনার প্রায় তিন বছর আগেই উত্তরপ্রদেশ সেচ দফতর নয়ডা অথরিটিকে লিখিতভাবে সতর্ক করেছিল। ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, গর্তে জল জমার সমস্যা রুখতে জরুরি ভিত্তিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার। কিন্তু সেই চিঠি ফাইলের মধ্যেই হারিয়ে যায় (Letter Lost in Files)। প্রকল্পও আর বাস্তবায়িত হয়নি।
সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সেচ দফতর নয়ডা অথরিটিকে চিঠি দিয়ে জানায়, সংশ্লিষ্ট গর্তে ‘হেড রেগুলেটর’ (Head Regulator) বসানো প্রয়োজন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত বৃষ্টির জল ও নিকাশি জল নিয়ন্ত্রিতভাবে হিন্দন নদীতে পাঠানো যেত। হেড রেগুলেটর মূলত জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিকাশি বা খালে পলি জমা রোধ করে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ ছিল, প্রস্তাবিত কাজের জন্য বাজেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই চিঠি গুরুত্বই পায়নি। নয়ডা অথরিটির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনও চিঠির অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগতই নন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, যে বেসমেন্টে যুবরাজের গাড়ি পড়ে যায়, সেখানে জল জমার কারণ শুধু বৃষ্টি নয়। আশপাশের আবাসন প্রকল্পগুলির সঙ্গে যুক্ত নিকাশি নালা থেকেও জল এসে সেখানে জমছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা যুবরাজের মৃত্যুর পর প্রতিবাদ মিছিলে দাবি তুলেছেন, প্রস্তাবিত হেড রেগুলেটর বসানো হলে এই জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হত না।
ঠিক কী ঘটেছিল
শুক্রবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ২৭ বছরের যুবরাজ। নয়ডার টাটা ইউরেকা পার্কে তাঁর বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে, শেষ মোড়ের কাছে ঘন কুয়াশার মধ্যে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। গ্র্যান্ড ভিটারা গাড়িটি রাস্তা ছাড়িয়ে সরাসরি জলভরা গর্তে পড়ে যায়। যুবরাজ ফোন করে বাবাকে সাহায্যের কথা জানান। পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও কুয়াশার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যুবরাজ গাড়ি থেকে বেরিয়ে ফোনের টর্চ জ্বেলে সাহায্য চাইছিলেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, পুলিশ বা দমকলকর্মীরা ভিতরে লাফিয়ে উদ্ধার করতে ভয় পাচ্ছিলেন, কারণ ঘটনাস্থলে প্রচুর লোহার রড ও ভাঙা নির্মাণ সামগ্রী পড়েছিল। তবে এক ডেলিভারি কর্মী প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই খাদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৫ ঘণ্টা পর তাঁকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা যুবরাজকে মৃত (Yuvraj Mehta death) বলে ঘোষণা করেন।
সরকারি পদক্ষেপ
ঘটনার পর যোগী আদিত্যনাথ সরকার তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। নয়ডা অথরিটির সিইও আইএএস অফিসার লোকেশ এম-কে সরিয়ে ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে। যুবরাজের বাবা রাজকুমার মেহতা অভিযোগ তুলেছেন, গর্তের ধারে ব্যারিকেড বা রিফ্লেক্টর না থাকাই এই মৃত্যুর বড় কারণ। তাঁর দাবি, এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে আর কোনও পরিবারকে এমন সন্তানহারা হতে না হয়।
এদিকে রিয়েল এস্টেট সংস্থা লোটাস গ্রিনস জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও ভূমিকা নেই। সংস্থার দাবি, ২০১৯-২০ সালেই প্লটটি নয়ডা অথরিটির অনুমোদনে গৃহপ্রবেশ গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই যুক্তি প্রশাসনিক দায় এড়ানোর প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।