মার্কিন-ইরান সংঘাতের মাঝেই পেট্রোকেমিক্যাল আমদানিতে বড় ছাড় দিল কেন্দ্র। শিল্পে খরচ কমাতে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি মিলবে একাধিক ক্ষেত্রে।

পেট্রোকেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক মকুব কেন্দ্রের
শেষ আপডেট: 2 April 2026 10:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন-ইরান সংঘাত (US-Iran War) কবে শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তেই শিল্পে স্বস্তির বার্তা দিল কেন্দ্র। পেট্রোকেমিক্যাল (Petrochemical) নির্ভর একাধিক শিল্পের জন্য বড়সড় রিলিফ— জরুরি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক (Customs Duty) সম্পূর্ণ মকুবের ঘোষণা করল অর্থ মন্ত্রক (Finance Ministry)।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই ছাড় কার্যকর থাকবে ৩০ জুন (June 30) পর্যন্ত। পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল (Global Supply Chain) বিঘ্নিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্লাস্টিক (Plastics), প্যাকেজিং (Packaging), জামাকাপড় (Textiles), ওষুধ (Pharmaceuticals), রাসায়নিক (Chemicals), অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ (Automotive Components)-সহ একাধিক উৎপাদনশিল্প উপকৃত হবে।
অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মূলত অস্থায়ী ও লক্ষ্যভিত্তিক (Temporary and Targeted Relief)। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল ইনপুটের (Petrochemical Inputs) সরবরাহ বজায় রাখা, উৎপাদন খরচ (Cost Pressure) কমানো এবং দেশের বাজারে স্থিতিশীলতা (Supply Stability) বজায় রাখাই লক্ষ্য।
যে সব পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মিথানল (Methanol), অ্যানহাইড্রাস অ্যামোনিয়া (Anhydrous Ammonia), টলুইন (Toluene), স্টাইরিন (Styrene), ডাইক্লোরোমিথেন (Dichloromethane), ভিনাইল ক্লোরাইড মনোমার (Vinyl Chloride Monomer), পলিবিউটাডিয়েন (Polybutadiene), স্টাইরিন বুটাডিয়েন (Styrene Butadiene) এবং আনস্যাচুরেটেড পলিয়েস্টার রেজিন (Unsaturated Polyester Resins)।
এদিকে জ্বালানির বাজারেও (Fuel Market) বড়সড় চাপ তৈরি হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইজরায়েল (Israel) ইরানের (Iran) উপর সামরিক হামলা চালানোর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে গত সপ্তাহে পেট্রল (Petrol) ও ডিজেলের (Diesel) উপর অন্তঃশুল্ক (Excise Duty) লিটারপিছু ১০ টাকা কমিয়েছে সরকার। বর্তমানে পেট্রলে শুল্ক কমে হয়েছে ৩ টাকা প্রতি লিটার, আর ডিজেলে তা শূন্য।
তবে রফতানির ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। ডিজেলের উপর লিটারপিছু ২১.৫০ টাকা এবং অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) উপর ২৯.৫০ টাকা রফতানি শুল্ক (Export Duty) ধার্য করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের প্রভাব সামলাতে একদিকে শিল্পকে স্বস্তি, অন্যদিকে জ্বালানি বাজারে নিয়ন্ত্রণ, দুই দিকেই ভারসাম্য রাখতে চাইছে সরকার।