Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মিছিলে না যাওয়ায় নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, শুভেন্দুকে শো-কজের দাবিIPL 2026: ‘তাহলে আমার তত্ত্ব ভুল ছিল না!’ বৈভবের বিরল ব্যর্থতা দেখে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ইরফানের I PAC: ৫০ কোটির বেআইনি লেনদেন, আই প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশের বিরুদ্ধে ৬ বিস্ফোরক অভিযোগ ইডিরWest Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?

বাংলাদেশে বহু পেট্রল পাম্প তেল শূন্য, সংকটে ভারতের মুখ চেয়ে তারেক, কতটা সাড়া দেবেন মোদী

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কর্তব্য হল অন্যান্য খাতে খরচ কমানো। এই ব্যাপারে দিশা দিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি কাজ করছে।

বাংলাদেশে বহু পেট্রল পাম্প তেল শূন্য, সংকটে ভারতের মুখ চেয়ে তারেক, কতটা সাড়া দেবেন মোদী

তারেক রহমান

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 25 March 2026 08:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট (Bangladesh Fuel Crisis) তীব্র আকার ধারণ করেছে। পেট্রল পাম্প বন্ধ।‌ সেগুলি তেল শূন্য। ‌ বিশ্ববাজারে তেলের দাম (oil price hike) বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি রীতিমতো সংকটজনক।

কীভাবে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা যায় তার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সূত্র বের করতে বুধবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের মন্ত্রী এবং সচিবদের ডাকা হয়েছে। এছাড়া হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা। ‌

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কর্তব্য হল অন্যান্য খাতে খরচ কমানো। এই ব্যাপারে দিশা দিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি কাজ করছে।

ঢাকার একাধিক সূত্রের খবর চলতি সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানের সরকার ভারতের ওপর অনেকটা ভরসা করছে। তার অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঢাকায় কর্মরত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে জ্বালানি সংকটের বিষয়ে অবহিত করে সহায়তা চেয়েছেন। সপ্তাহ দেড়েক আগে ভারত জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ শুরু করেছে। এজন্য নতুন করে ভারত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন চালু করা হয়েছে। ‌ বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ভারতের হাইকমিশনারকে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি সরবরাহে ভারতের সহযোগিতা তাদের প্রয়োজন।

নয়া দিল্লির খবর ঢাকার অনুরোধ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও গত তিন দিনে ভারতের পরিস্থিতিও বদলে গিয়েছে। ভারত সরকার অচিরেই দেশে জ্বালানি ব্যবহারে বিধিনিসের জারি করতে পারে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলিকে জ্বালানি দিয়ে সহায়তা করার কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চালাচ্ছে দিল্লি। জানা যাচ্ছে আর্থিক কারণেও বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের ওপর বাড়তি নির্ভর করতে চাইছে।

তবে বাংলাদেশে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের সামনে এখন মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ দেশের আর্থিক পরিস্থিতি।  তার ওপর সরকার ক্ষমতা আসার দশ দিনের মাথায় শুরু হয়েছে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়ে দরবার শুরু করেছে। ‌ সরকারের তরফে বলা হয়েছে আগামী জুনেই ঋণের প্রথম কিস্তির টাকা প্রয়োজন।

তবে সরকারের একাংশের বক্তব্য জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়ে ওঠার পেছনে আরও একটি বড় কারণ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ‌যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘোড়ালো হতেই বহু মানুষ বিপুল পরিমাণ পেট্রল ডিজেল মজিদ করেছে। এমনও দেখা গিয়েছে মানুষ বাড়তি ডিজেল সঞ্চয় করতে বাড়ি থেকে হাড়ি, বালতি, ড্রাম নিয়ে পেট্রল পাম্পে হাজির হয়েছেন। মাঝরাতে বন্ধ পেট্রল পাম্প জোর করে খুলে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের কারণেও বহু মানুষ তেল মজুত করে নিয়েছেন।

সংকটের আশু মোকাবিলায় ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর কোপ পড়েছে। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ‌ চালু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। গার্মেন্ট শিল্প ছাড়া অন্যান্য কলকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কাটছাঁট করা হচ্ছে। ‌ আবাসিক এলাকাতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে না।‌

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই ধরনের পদক্ষেপে সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। সরকারকে বড় কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বেশিরভাগ অফিস কাছারি আপাতত বন্ধ রেখে ওয়াক ফ্রম হোম চালু করা। তাতে যানবাহনের ওপর চাপ কমবে। যদিও এর ফলে অর্থনীতিতে উল্টো ফল হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আপাতত জ্বালানি সঞ্চয় করাটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে গত মাসের ১৭ তারিখ। এরপর নতুন সরকার ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই তিন চারটি বড় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করেছে। তার মধ্যে আছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মুকুব, খাল খনন এবং উপাসনালয়ের প্রধান ও সহকারীদের ভাতা। এইসব খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে। এমন সময় সংকট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলেছে।


```