অবিশ্বাস্যভাবে হামলাকারীদের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে পালাতে সক্ষম হয় কিশোরটি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য
শেষ আপডেট: 23 February 2026 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩০ সেকেন্ডে ২৭ বার ছুরির কোপ (stabbing incident)! মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল শহরের এক স্নুকার ক্লাবের ভিতরে দুই নাবালকের ভয়াবহ হামলার শিকার দশম শ্রেণির এক পড়ুয়া (Bhopal stabbing minor attack)। ঘটনায় শিউরে ওঠার মতো আরও এক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত নাবালকেরাই (minor crime Madhya Pradesh) নাকি নিজেদের হামলার সিসিটিভি ফুটেজ (viral CCTV) সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, দুই নাবালক অত্যন্ত পরিকল্পিত ভঙ্গিতে ক্লাবের ভিতরে ঢুকছে। ঠিক যেন সিনেমার দৃশ্য! ক্লাবে ঢোকার পর মুহূর্তের মধ্যেই তারা ওই কিশোরকে টার্গেট করে এবং ঘিরে ফেলে। তারপর ছুরি হাতে শুরু হয় ঝড়ের গতিতে আক্রমণ। মাত্র আধ মিনিটে ১৬ বছরের ওই ছাত্রকে ২৭ বার ধারাল ছুরি দিয়ে কোপানো হয়। যত দ্রুত তারা ক্লাবে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই হামলার পর 'কাজ শেষে' ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় (teen revenge attack Bhopal crime)।
আহত কিশোরের এক হাতের কবজিতে ১০টিরও বেশি গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। অন্য হাতের দুটি আঙুল কেটে গিয়েছে। কাঁধ ও পিঠেও গুরুতর আঘাত রয়েছে। তবুও অবিশ্বাস্যভাবে হামলাকারীদের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে পালাতে সক্ষম হয় কিশোরটি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত ছাত্রটি গৌতম নগর থানা এলাকার বাসিন্দা এবং নিয়মিত ওই স্নুকার ক্লাবে যেত। অভিযুক্ত দুই নাবালকও দশম শ্রেণির ছাত্র এবং তারা একই কোচিং সেন্টারে পড়ে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই হামলার নেপথ্যে প্রতিশোধের মানসিকতা কাজ করেছে।
ঘটনার কয়েক দিন আগে পুল খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় নাকি ওই কিশোর অভিযুক্ত দুই জনকে চড় মেরেছিল। সেই অপমানের জেরেই পরিকল্পিত এই হামলা বলে মনে করছে পুলিশ।
হামলার ঘটনাটি ঘটে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে, গণেশ চক এলাকার একটি ক্লাবে। রবিবার প্রতিশোধমূলক এই ঘটনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই গোটা শহর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আঘাত সংক্রান্ত ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। দুই নাবালককে আটক করা হলেও পরে নোটিস দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাব-ইনস্পেক্টর মণিপাল সিং ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, প্রথমে সাধারণ আঘাতের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। মেডিক্যাল রিপোর্টে আঘাতের প্রকৃতি স্পষ্ট হলে আরও গুরুতর ধারা যুক্ত করা হবে।
অভিযুক্তরাই নাকি হামলার ভিডিও নিজেরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে - এই অভিযোগ সামনে আসতেই জনরোষ আরও তীব্র হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, কিশোরদের মধ্যে সাধারণ বিবাদ কীভাবে প্রায় প্রাণঘাতী হামলায় পরিণত হল? আর কীভাবে এতটা দুঃসাহস তৈরি হল, যে এক সহপাঠীকে খুনের চেষ্টা করেও প্রকাশ্যে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সাহস দেখাতে পারে অভিযুক্তরা?
এই ঘটনার পর কিশোরদের মধ্যে বাড়তে থাকা হিংসা, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলার দ্রুত প্রতিক্রিয়া - সব কিছু নিয়েই নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।