মেট্রোতে ওঠার সময় এক বন্ধুকে মেসেজ করে দেবী জানান যে, তিনি যাচ্ছেন স্টেডিয়ামে। কে জানত সেটিই হতে চলেছে তাঁর শেষ মেসেজ।

শেষ আপডেট: 5 June 2025 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের (Chinnaswamy stadium chaos) বাইরে আইপিএলের বিজয় উৎসবকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলায় (Bengaluru stampede) ১১ জন ভক্তের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক তরুণীও, দেবী (RCB fan death in stampede)। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ওই তরুণী ছিলেন একজন ‘ডাই-হার্ড’ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) সমর্থক।
তামিলনাড়ুর বাসিন্দা হলেও চাকরিসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন পেশায় আইটি কর্মী দেবী। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। সেলিব্রেশনে অংশ নিতে অফিসে ছুটির আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। শিফটের মাঝপথে, দুপুর ২:৩০ নাগাদ ছুটি মঞ্জুর হওয়ার পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হন দেবী।
বন্ধুদের কথায়, দেবী ছিলেন বিরাট কোহলির ভক্ত। অনলাইনে আর কোনও পাস ছিল না। তবু মাঠে গিয়ে একটি পাস পেয়েই যাবেন, এই আশায় যান ওখানে। তাড়াহুড়োয় অফিস ডেস্কেই রেখে যান নিজের ল্যাপটপ আর ব্যাগ। মেট্রোতে ওঠার সময় এক বন্ধুকে মেসেজ করে জানান যে তিনি যাচ্ছেন স্টেডিয়ামে। কে জানত সেটিই হতে চলেছে তাঁর শেষ মেসেজ।
দেবীর এক সহকর্মী জানান, ‘ওর ল্যাপটপ এখনও টেবিলেই, ওর ব্যাগও আছে। কিন্তু ও নিজে আর নেই…’। তিনি আরও জানান, হাসপাতাল থেকে ফোন আসার পর তাঁরা দেবীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তখনও ওর পরিবার কিছু জানত না।
ঘটনার সময় স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা আরেক RCB ভক্ত প্রশান্ত শেঠি, যিনি বন্ধুবান্ধব নিয়ে এসেছিলেন, বলেন, ‘আমরা তো শুধু নিজেদের প্রিয় তারকাদের দেখতে এসেছিলাম। টিকিট কেটে এসেছি, কিন্তু স্টেডিয়ামেই ঢুকতে পারিনি। হঠাৎ পুলিশ সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়, গেট বন্ধ করে দেয়, আর মেইন গেটের সামনে শুরু হয় লাঠিচার্জ।’
তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, “আমরা টিকিট কেটে এসেছিলাম, কোনও অপরাধ করিনি। কিন্তু শেষে মার খেতে হল। আমাদের মতো ফ্যানদের জন্য এটা একটা বিভীষিকার সমান।’
এই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করে সরকার।
হঠাৎ কী করে ঘটল এমন ঘটনা?
বিজয় উৎসবটি ছিল RCB-এর IPL জয়ের উদ্যাপন। অনুষ্ঠানটির টিকিট হঠাৎ করেই ছাড়া হয় এবং চোখের নিমেষে তা বিক্রিও হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন গেট ১২, ১৩ ও ১০- স্টেডিয়ামের মূল প্রবেশপথে একসঙ্গে অনেক মানুষ এসে জমা হন। নিরাপত্তা থাকলেও প্রচণ্ড ভিড় সামলানোর পক্ষে তা যথেষ্ট ছিল না।
দুপুর ৩:৩০ নাগাদ ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, এবং পুলিশ ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ গেট বন্ধ করে দেয়, যাতে টিকিট ছাড়া জোর করে কেউ ঢুকতে না পারে। এরপর বিকেল ৪:৩০ নাগাদ, কাছের কাব্বন পার্ক মেট্রো স্টেশন থেকে আরও লোক এসে পৌঁছায়, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশ তখন জোর জবরদস্তি ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
টিকিট থাকলেও অনেকেই পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন। যদিও তাঁরা বলছেন, ‘এই চরম বিশৃঙ্খলা থেকে অক্ষত ফিরে আসতে পেরেছি- এটাই ভাগ্যের ব্যাপার।’