বুধবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভিতরে বিরাট-রজতরা (Virat Kohli-Rajat Patidar) যখন ট্রফি নিয়ে উদযাপন করছে, সেইসময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে হুড়োহুড়ির জেরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Chinnaswamy Stadium Stampede Case) ঘটে যায়।

ছবি- গুগল
শেষ আপডেট: 5 June 2025 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'কাটাছেঁড়া করবেন না প্লিজ, শুধু দেহটা ফিরিয়ে দিন', হাত জোর করে কাতর আর্জি বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) পদপিষ্ট হয়ে মৃত এক তরুণের বাবার। বুধবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভিতরে বিরাট-রজতরা (Virat Kohli-Rajat Patidar) যখন ট্রফি নিয়ে উদযাপন করছে, সেইসময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে হুড়োহুড়ির জেরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Chinnaswamy Stadium Stampede Case) ঘটে যায়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১১ জনের।
একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নিহত তরুণের বাবা। তিনি বলেন, 'আমার একটাই সন্তান ছিল, তাকে হারিয়ে ফেললাম। আমাকে না জানিয়েই ও গিয়েছিল। এখন হয়তো মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রী আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন, কিন্তু তাঁরা তো আর আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।'
১৮ বছরের অপেক্ষার শেষে চলতি মরশুমের আইপিএল ট্রফি জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস বেঙ্গালুরু (RCB)। মঙ্গলবার (৩ জুন) ছিল ফাইনাল। বুধবারই বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিজয় উৎসব ছিল আরসিবির।
গতকাল সকাল থেকেই শহরজুড়ে ছিল ক্রিকেটভক্তদের উন্মাদনা। বিকেলে হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের বিমানবন্দরে এসে নামে টিম আরসিবি। বিরাট কোহলি (Virat Kohli) এবং আইপিএল ট্রফিকে (IPL Trophy) একবার দেখতে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। স্টেডিয়ামের সংকীর্ণ প্রবেশ পথে ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়ির ফলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা।
পদপিষ্ট (Stampede) হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ সমর্থকের। বেসরকারি সূত্রের খবর, মৃতদের মধ্যে ছ’বছরের শিশুকন্যাও রয়েছে। আহত অন্তত ২৫। তাঁদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের বোরিং হাসপাতাল ও বৈদেহী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় জুড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িও। কর্নাটকের কংগ্রেসি সরকারকে এই গণমৃত্যুর দায়ী ঠাউরেছে বিরোধী দল বিজেপি। দলের তরফে অমিত মালব্য একটি ট্যুইট করে লিখেছেন, ‘এই ট্র্যাজেডি অপরাধমূলক গাফিলতি। কংগ্রেস সরকার দু’হাতে রক্ত মেখেছে। শুধুমাত্র গাফিলতির কারণেই এতগুলি মানুষ জীবন দিয়েছেন। এটা কোনও দুর্ঘটনাই নয়, সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।‘
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ও আহতদের সকলেরই বয়স ৪০-এর ভিতরে। নিহতদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ছয়জনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছে, এএস দিব্যাংশী (১৩), ভূমিক (২০), সাহানা (২৫), অক্ষতা (২৭), দরেশা (৩২), দেবী (২৯), শিবলিঙ্গ (১৭), চিন্ময়ী (১৯), প্রজ্জ্বল (২০)। এরা প্রত্যেকেই নিজের বন্ধুদের সঙ্গে বিজয় উৎসবে সামিল হয়েছিলেন বলে খবর পুলিশ সূত্রের। আরসিবি টিমের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ঘটনার শোকপ্রকাশ করে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। আনন্দের মুহূর্ত যে ট্র্যাজেডিতে পরিণত হবে তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি কেউ।