পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার পরই সামনে আসে বিস্ময়কর তথ্য। সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইন্দোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে রয়েছে তিনটি বাড়ি—তার মধ্যে একটি বহুতল আবাসন এবং একটি ৬০০ বর্গফুটের বাড়ি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2026 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিক্ষা করে দিন গুজরান - এমন ভাবমূর্তির আড়ালেই লুকিয়ে ছিল বিপুল সম্পদের পাহাড়। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর (Madhya Pradesh) শহরকে ভিখারি-মুক্ত (Beggars Free Indore) করার সরকারি অভিযানে উঠে এল এমনই এক চাঞ্চল্যকর সত্য। বছরের পর বছর রাস্তায় বসে ভিক্ষা করতে দেখা যাওয়া এক ব্যক্তি আদৌ গরিব নন - বরং তাঁর নামে রয়েছে কোটি টাকার সম্পত্তি, একাধিক বাড়ি ও গাড়ি।
রাজ্য সরকারের ‘বেগার-ফ্রি ইন্দোর’ (Beggars Free Indore) অভিযানের লক্ষ্য ভিক্ষার উপর নির্ভরশীল মানুষদের পুনর্বাসন। সেই অভিযানের সময়ই মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের কর্মীরা সারাফা বাজার এলাকায় শনাক্ত করেন মাঙ্গিলাল (Mangilal) নামে এক ব্যক্তিকে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় তাঁকে ভিক্ষা করতে দেখা যেত।
বিশেষভাবে সক্ষম মাঙ্গিলাল সাধারণত একটি ঠেলাগাড়িতে বা হাত ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন। তাঁর এই শারীরিক অবস্থার কারণে সহানুভূতিশীল হয়ে পথচারীরা নিয়মিত টাকা দিতেন। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন তাঁর ভিক্ষার আয় ছিল আনুমানিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা।
কিন্তু পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার পরই সামনে আসে বিস্ময়কর তথ্য। সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইন্দোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে রয়েছে তিনটি বাড়ি - যার মধ্যে একটি বহুতল আবাসন এবং একটি ৬০০ বর্গফুটের বাড়ি। পাশাপাশি তাঁর মালিকানায় রয়েছে তিনটি অটো-রিকশা ও একটি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি, যেগুলি ভাড়া দিয়ে নিয়মিত আয় করতেন তিনি।
সবচেয়ে বিতর্কের জায়গা - নিজের নামে বিপুল সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PMAY) আওতায় একটি এক বেডরুমের বাড়িও পেয়েছেন। কীভাবে এই সরকারি সুবিধা তাঁর হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মাঙ্গিলাল স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের টাকা ধার দিতেন এবং নিয়মিত চড়া সুদ আদায় করতেন। প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের সুদখোরি বেআইনি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আয় সংক্রান্ত নথি এবং সম্পত্তির দলিল খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। মোট সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন ঊর্ধতন আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, ইন্দোরে চলা ভিখারি উচ্ছেদ অভিযানে এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, তাঁদের অনেককেই কাজ, আশ্রয় এবং শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে—যার ফলে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে শহরের সামাজিক বাস্তবতা।