নির্বাচনী দায়িত্বে যুক্ত যে সব জেলা স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষক মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত থাকবেন, তাঁদেরই একাংশকে পরীক্ষা চলাকালীন তাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 19 January 2026 21:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস পড়লেই শুরু হয়ে যাবে মাধ্যমিক (Madhyamik Exam) এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (Higher Secondary)। আবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission) জানিয়ে রেখেছে এই ফেব্রুয়ারিতেই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR West Bengal) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। সেই প্রক্রিয়া নিয়ে এখন তুমুল ব্যাস্ত শিক্ষকরাও (SIR Teachers)। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সে নিয়েই একপ্রস্থ বৈঠক হয়ে গেল নবান্নে।
নির্বাচনী দায়িত্বে যুক্ত যে সব জেলা স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষক মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত থাকবেন, তাঁদেরই একাংশকে পরীক্ষা চলাকালীন তাঁদের পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়। তাছাড়া কলকাতা ও শহরতলীর কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রেই এখন এসআইআর-এর শুনানি পর্ব চলছে। সেক্ষেত্রে বিকল্প শুনানি কেন্দ্র কোথায় হবে, কী করা যাবে, তা নিয়েই সোমবার নবান্নে বৈঠকে বসেন, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার, বিভিন্ন জেলার ডিএম ও অন্যান্য আধিকারিকরা।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে। মাধ্যমিক শেষ হতে না হতেই উচ্চ মাধ্যমিক শুরু হতে চলেছে ১২ ফেব্রুয়ারি, চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ৬ লক্ষেরও বেশি। এই সময়ে স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীন জেলা স্কুল পরিদর্শকেরা সেন্টার ইনচার্জ, ভেন্যু ইনচার্জ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় তাঁরা যদি এসআইআর-এর শুনানিতে ব্যস্ত থাকেন, তা হলে পরীক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ব্যাপারে আগেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি লিখে বিশেষ আর্জি জানায় শিক্ষা দফতর।
বস্তুত, এসআইআর ঘোষণা করার সময়ই নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছিল, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিকেও আবেদন ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে আবেদন ও আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৯ ডিসেম্বর। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগের সময়সীমাতেই এই আবেদন ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।
গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। পরের দিন, ১৭ ডিসেম্বর থেকেই কমিশন নাম সংযোজন, সংশোধন বা বাদ দেওয়ার সংক্রান্ত আবেদন এবং অভিযোগ গ্রহণ শুরু করে। প্রথমে অভিযোগ ও আবেদন জানানোর শেষ তারিখ ধার্য ছিল ১৫ জানুয়ারি। পরে নির্বাচন কমিশন সেই সময়সীমা আরও চার দিন বাড়ায়।
জানা গেছিল, এসআইআর-এর পর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সির জন্য ১৪ তারিখের ডেডলাইন রক্ষা করা ক্রমশই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তার ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ৭ থেকে ১০ দিন পিছিয়ে দিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। ততক্ষণে মাধ্যমিক কেন উচ্চমাধ্যমিকও শুরু হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে আগেভাগেই কী করা যায়, না যায়, তা নিয়ে বিকল্প পথ খুঁজতে বৈঠক সেরে ফেলল নবান্ন।