অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে, যাঁরা অভিযুক্তকে মারধর করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আলাদা মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে ধৃতের আসল পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
.jpg.webp)
গ্রেফতার অবৈধ বাংলাদেশি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর একটি মন্দিরে ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করল পুলিশ (Illegal Bangladeshi Arrested)। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। অভিযুক্তের নাম কবীর মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি বেঙ্গালুরুর মারাঠাহল্লির কাছে দেবরবিসনহল্লি এলাকায় অবৈধভাবে থাকছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় ভেনুগোপাল মন্দিরে (Bengaluru Temple)। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সকালবেলা হঠাৎই মন্দিরে ঢুকে পড়েন কবীর মণ্ডল। তারপর জোরে জোরে 'আল্লাহ হু আকবর' বলে চিৎকার করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি মন্দিরের প্রবেশদ্বারে রাখা দেবমূর্তিগুলোর দিকে জুতো ছুঁড়ে মারারও চেষ্টা করেন। এই আচরণে উপস্থিত মানুষজন চমকে ওঠেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “হঠাৎ মন্দিরে ঢুকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। তারপর দেবমূর্তির দিকে জুতো ছুড়তে যান। আমরা বাধা দিলে তিনি মন্দির ভাঙার হুমকিও দেন।” ঘটনার পর এলাকাবাসীরাই দ্রুত ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন এবং মন্দিরের বাইরে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন, যতক্ষণ না পুলিশ আসে। পরে মারাঠাহল্লি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কবীর মণ্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে, যাঁরা অভিযুক্তকে মারধর করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আলাদা মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে ধৃতের আসল পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং কয়েক বছর ধরেই বেঙ্গালুরুতে অবৈধভাবে থাকছিলেন।
যুবকের এই আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা। তাঁদের দাবি, এমন ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ধর্মীয় স্থানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার সাহস না পায়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছেও তারা কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক কেন এমন কাজ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি বেশ কিছু অস্পষ্ট ও এলোমেলো কথা বলেছেন। তদন্ত চলছে, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সাহায্যও নেওয়া হতে পারে।
ঘটনার পর মারাঠাহল্লি ও আশপাশের এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।