পাকিস্তানের বালুচিস্তানে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চিনা সেনা মোতায়েন হতে পারে— এই আশঙ্কা প্রকাশ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে চিঠি লিখেছেন বালুচ নেতা মির ইয়ার বালুচ।

গত ৭৯ বছর ধরে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে বালুচিস্তান ভয়াবহ দমন-নিপীড়নের শিকার।
শেষ আপডেট: 2 January 2026 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের বালুচিস্তানে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চিনা সেনা মোতায়েন হতে পারে— এই আশঙ্কা প্রকাশ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে চিঠি লিখেছেন বালুচ নেতা মির ইয়ার বালুচ। তাঁর সতর্কবার্তা, এমন ঘটনা ঘটলে তা শুধু বালুচিস্তানের নয়, ভারতের ভবিষ্যতের জন্যও “অভাবনীয়” ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে মির ইয়ার বালুচ বলেন, চিন ও পাকিস্তানের গা মাখামাখি ক্রমেই আরও গভীর হচ্ছে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাঁর দাবি, এই জোট সরাসরি বালুচ জনতা ও তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৭৯ বছর ধরে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে বালুচিস্তান ভয়াবহ দমন-নিপীড়নের শিকার। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রীয় মদতে সন্ত্রাস, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতি হিংস্র আচরণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এই দীর্ঘদিনের পচে যাওয়া সমস্যাকে গোড়া থেকে নির্মূল করার সময় এসে গিয়েছে, যাতে আমাদের জাতির জন্য স্থায়ী শান্তি ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা যায়, লেখেন তিনি।
চিঠিতে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে চিন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্প নিয়ে। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্রকল্প বালুচিস্তান দিয়েই গিয়েছে। মির ইয়ার বালুচের দাবি, প্রকল্পটি দ্রুত শেষ পর্যায়ের দিকে এগচ্ছে এবং এর ফলেই খুব শিগগিরই বালুচিস্তানে চিনা সেনা মোতায়েন হতে পারে।
তিনি লেখেন, যদি বালুচিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলিকে আরও শক্তিশালী করা না হয় এবং আগের মতোই তাদের উপেক্ষা করা হয়, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চিন তাদের সেনা পাঠিয়ে বালুচিস্তান দখলে নিতে পারে। তাঁর সতর্কবার্তা, স্থানীয় মানুষের সম্মতি ছাড়া এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণতি হবে সুদূরপ্রসারী।
মির ইয়ার বালুচ বলেন, ৬ কোটি বালুচের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বালুচিস্তানের মাটিতে চিনা সেনার বুট পড়লে তা শুধু এই অঞ্চলের নয়, ভারতের ভবিষ্যতের জন্যও এক ভয়াবহ ও অকল্পনীয় ভীতির কারণ হয়ে উঠবে। যদিও চিন ও পাকিস্তান বারবার দাবি করে এসেছে যে, সিপিইসি পুরোপুরি অর্থনৈতিক প্রকল্প, এর কোনও সামরিক দিক নেই। তবে ভারত শুরু থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। নয়াদিল্লির যুক্তি, পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে এই করিডর যাওয়ায় তা ভারতের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে।
চিঠিতে মির ইয়ার বালুচ ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরের’-এরও প্রশংসা করেন। পহলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোর উপর চালানো এই অভিযানের প্রশংসা করে তিনি একে “অসাধারণ সাহসিকতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন” বলে উল্লেখ করেন।