বুধবার ভোরের ঘটনায় এখনও কয়েকজন নিখোঁজ আছেন। বৃহস্পতিবারেও তাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে।

বারবার কেন একের পর এক সেতু ধসে পড়ছে? বিহার, গুজরাত, মুম্বই সর্বত্র একই চিত্র কেন?
শেষ আপডেট: 10 July 2025 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের বডোদরায় গম্ভীরা সেতু ভেঙে ১৩ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে কে দায়ী? মৃতদের পরিবারের প্রতি শোক-সহানুভূতি, ক্ষতিপূরণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নটিই এখন ঘূর্ণিজলের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে। বুধবার ভোরের ঘটনায় এখনও কয়েকজন নিখোঁজ আছেন। বৃহস্পতিবারেও তাঁদের উদ্ধারের কাজ চলছে। কিন্তু, বারবার কেন একের পর এক সেতু ধসে পড়ছে? বিহার, গুজরাত, মুম্বই সর্বত্র একই চিত্র কেন?
গম্ভীরা সেতুর বয়স হয়েছিল প্রায় সাড়ে চার দশক। যা একেবারে জীর্ণ হয়ে এসেছিল বলে স্থানীয় ও নিয়মিত চলাচলকারী মানুষের দাবি। যদিও বুধবারই বিজেপি সরকারের মন্ত্রী বুক ঠুকে বলেছিলেন, নিয়মিত এই সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে। সেতুটি এতটাই জরাজীর্ণ ছিল যে, এর উপর দিয়ে ভারী যান চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল। তা সত্ত্বেও এই সেতুর উপর দিয়ে রোজ শয়ে শয়ে ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করত।
দুর্ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল প্রথামাফিক বুধবারই একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যার প্রাথমিক পর্বে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, টোল ট্যাক্স বাঁচাতে রোজ পণ্যবাহী ট্রাক এই সেতুর উপর দিয়েই যাতায়াত করত। ভারী ভারী ট্রাক যাওয়ার সময় এই সেতু যে কাঁপত তা অনেক নিত্যযাত্রীই জানেন। ট্রাকগুলিও যাওয়ার সময় সেতুতে ভয়ঙ্কর কম্পন তৈরি হতো। তা অগ্রাহ্য করেই রাতের অন্ধকারে ট্রাক চলাচল করত গম্ভীরা সেতু দিয়ে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, মুম্বই-আমদাবাদ ৬ লেনের জাতীয় সড়কে রয়েছে টোল প্লাজা। তা এড়াতে ট্রাক চালকরা বডোদরা-আনন্দ জেলার সংযোগকারী এই সেতু ব্যবহার করতেন টাকা ও সময় বাঁচাতে। স্থানীয় বাসিন্দারা এদিন জানান, ট্রাক চালকরা যেমন পয়সা বাঁচাতে এই সেতু দিয়ে যেতেন, তেমনই একলপ্তে ৩০-৩৫ কিমি রাস্তাও কম পড়ত। তাঁরা বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বহুবার বলেছি, ট্রাক গেলে এই সেতু প্রবলভাবে নড়ে। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি। বোরসাড গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা দেবেন্দ্র প্যাটেল বলেন, যতবার ভারী যান এখান দিয়ে গিয়েছে, ততক্ষণ ধরে ব্রিজের উপর কম্পন হতো। গম্ভীরা সেতুর কাছের একটি ব্রিজেরও একই দশা, বলেন গ্রামবাসীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্তা বলেন, আশপাশের বাসিন্দারা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন যে, বারবার মেরামত না করে একটি নতুন সেতু তৈরি করা হোক। কারণ, এই সেতু যে কোনওদিন ভেঙে পড়তে পারে। এ কারণে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নতুন সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাব পাশও হয়ে রয়েছে। যার নির্মাণমূল্য ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা।