গ্লোবাল এআই সম্মেলনে প্রযুক্তির পাশাপাশি ছিল ভারতীয় রন্ধনশৈলীর জমজমাট আয়োজন। বিশ্বনেতাদের জন্য বিশেষ ভোজে পরিবেশন করা হয় একাধিক স্বাদে ভরপুর দেশীয় পদ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 February 2026 23:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানী দিল্লিতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জোর চর্চা। ভারত মণ্ডপমে (Bharat Mandapam) বসেছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ (India AI Impact Summit 2026)। অ্যালগরিদম আর কোডের বাইরে, এখানে হয় ভবিষ্যতের কথোপকথন। সেই মঞ্চেই বুধবার বিশ্বনেতাদের জন্য বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
ডিনারটি শুধু আপ্যায়ন ছিল না। ছিল ভারতীয় খাদ্য-ঐতিহ্যের উপস্থাপনা। প্রতিটি পদে ছিল আঞ্চলিক স্বাদ, দেশীয় শস্য আর জিআই-ট্যাগ (GI-Tagged Products) উপকরণের উপস্থিতি।
শস্য, মশলা আর ঋতুর ছোঁয়া
এই বিশেষ মেনু তৈরি করেন আইটিসি গ্রুপের (ITC Group) শেফরা। অনুপ্রেরণা ‘বসন্ত’, শীতের শেষভাগ, ফসল তোলার সময় ও কৃষকদের আশা-আকাঙ্খার মুহূর্ত।
শুরু হয়েছিল ‘বর্ণিলা’ দিয়ে—ক্রিস্প বেবি পালং, দইয়ের গোলক, তেঁতুল-খেজুরের মিষ্টি স্বাদ, জোয়ারের মচমচে স্পর্শ।
মূল পদে ছিল উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) রন্ধন ঐতিহ্য। কেন্দ্রবিন্দুতে জিআই-ট্যাগ পাওয়া মুন্সিয়ারি রাজমা (Munsyari Rajma)। সঙ্গে পাহাড়ি চাল, ঝাংগোরা পোলাও, কুমায়ুনি আলু ও সবজির গুটকে। টমেটো-আনারির সস পুরো পদকে একসূত্রে বেঁধেছে।
মিলেট বা ছোট শস্যের উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো—পুষ্টিকর ও জলবায়ু-সহায়ক কৃষির বার্তা স্পষ্ট।
ঐতিহ্যের রুটি, আধুনিক ডেজার্ট
তাজা বেক করা তাফতান (Taftaan) আর কাশ্মীরি গিরদা (Kashmiri Girda) পরিবেশন করা হয়। ডেজার্টে ছিল ‘নিসর্গ’—রসমালাই ট্রেস লেচেস। ছানার স্পঞ্জ, শীতকালীন বেরির কম্পোট, মুক্তার মতো বাজরার স্ট্রুসেল। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেল।
শেষে কাশ্মীরি কাওয়া (Kashmiri Kahwa), ফিল্টার কফি, দার্জিলিং চা। সঙ্গে ইন্ডিয়ান রোজ ও মিশ্রি গুলকন্দ চকোলেট লিফ।
কূটনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন
এই নৈশভোজ শুধু রসনাতৃপ্তি ছিল না। ছিল সংস্কৃতির উপস্থাপনাও। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, আঞ্চলিক নৃত্য পরিবেশনা—বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের বহুরূপী সংস্কৃতির ঝলক।
ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রযুক্তি, নীতি-নির্ধারক, উদ্ভাবক সবাইকে এক মঞ্চে এনে দিল্লিকে বদলে দেওয়া হয়েছিল ভবিষ্যতের আলোচনার কেন্দ্রে। এআই নিয়ে আলোচনা চললেও, ওই রাতের বার্তা ছিল স্পষ্ট—ভারত শুধু প্রযুক্তিতে নয়, ঐতিহ্য ও স্বাদের কূটনীতিতেও সমান দক্ষ।