গত ৬ জুলাই নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করে নাবালিকা। এর আগে জুন মাসের শুরুতেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তখন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ভিকু ছেত্রীকে ১১ জুন গ্রেফতার করে ধোলা থানার পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 July 2025 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় শোরগোল অসমের (Assam Studen Death) তিনসুকিয়া জেলায়। স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়েছে। পকসো আইনে (POCSO Act) মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে নাবালিকার লেখা একটি চার পাতার চিঠি, যেখানে নির্যাতিতা ওই শিক্ষকের কুকীর্তির বিষয়ে উল্লেখ করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, একমাস আগেই নবম শ্রেণির ছাত্রী স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হলেও মানসিক যন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি মেয়েটি। সেই থেকেই আত্মহননের পথ বেছে নেয় সে (Student Dies By Suicide)।
গত ৬ জুলাই নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করে নাবালিকা। এর আগে জুন মাসের শুরুতেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তখন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ভিকু ছেত্রীকে ১১ জুন গ্রেফতার করে ধোলা থানার পুলিশ।
তবে এই ঘটনার পরেও স্কুল ও স্থানীয়দের থেকে যে সহযোগিতা ও সহানুভূতির প্রয়োজন ছিল তা মেলেনি বলেই অভিযোগ পরিবারের। পুলিশ নাবালিকার ঘর থেকে চার পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। সেই চিঠিতে শুধু অভিযুক্ত শিক্ষকেরই নয়, আরও তিনজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা সকলে মিলে ওই শিক্ষককে বাঁচাতে নির্যাতিতার উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন।
নাবালিকা নিজের চিঠিতে জানিয়েছে, কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে সে ভয়, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, ২৬ মে স্কুল ছুটির পর রান্নাঘরে একা পেয়ে শিক্ষক ভিকু ছেত্রী মেয়েটিকে পানীয়র সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেন (Sex Abuse By Teacher)। তারপরই চলে যৌন নির্যাতন। ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। ৩ জুন প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ পকসো আইনে মামলা রুজু করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু এতেও শেষরক্ষা হয়নি।
ছাত্রীর মৃত্যুর পর তার দাদা ফের থানায় গিয়ে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেন। এবার অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরে বিভিন্ন সমাজকর্মী ও সংগঠন এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।