শুধু মোদী নন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের প্রতিনিধিরা যখন ধর্মশালায় গিয়ে তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তখন বেজিং প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়ে জানিয়ে দিল, তিব্বত সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।

দলাই লামা
শেষ আপডেট: 7 July 2025 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলাই লামার ৯০তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) শুভেচ্ছা বার্তা ঘিরে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল চিন (China)। শুধু মোদী নন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের প্রতিনিধিরা যখন ধর্মশালায় গিয়ে তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তখন বেজিং প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে সরব হয়ে জানিয়ে দিল, তিব্বত সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “তিব্বত বিষয়ে চিনের অবস্থান স্পষ্ট ও দীর্ঘদিনের। দলাই লামা (Dalai Lama) একজন রাজনৈতিক নির্বাসিত ব্যক্তি, যিনি ধর্মের আবরণে তিব্বতকে চিন থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।”
মাও নিং আরও বলেন, “তিব্বত (চিনের পরিভাষায় শিজাং) সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের উচিত বিষয়টির সংবেদনশীলতা বুঝে চলা এবং বিচ্ছিন্নতাবিরোধী অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া, যেমনটা অতীতে ভারত সরকার চিনের প্রতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।”
এখানেই থামেননি তিনি। ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, “ভারত দলাই লামা ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে চিনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। এমন কোনও পদক্ষেপ ভারত না নেয়, যাতে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথে প্রভাব পড়ে।”
সম্প্রতি দলাই লামা পুনরায় জানিয়ে দেন, তাঁর পুনর্জন্ম প্রথা বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতের কোনও অবতারকে স্বীকৃতি দেওয়ার একমাত্র অধিকার থাকবে গাদেন ফোড্রাং ট্রাস্টের হাতে। এর পরেই চিনা দূতাবাস জানিয়ে দেয়, দলাই লামার এই ঘোষণার কোনও অধিকার নেই, এই সিদ্ধান্ত একা তিনি নিতে পারেন না।
এর আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স-এ লিখেছিলেন, “দলাই লামা প্রেম, সহানুভূতি, ধৈর্য ও নৈতিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। তাঁর জীবন আমাদের প্রেরণা দেয়। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।”
এই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, আরজেডি নেতা তথা মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এবং সিকিমের মন্ত্রী সোনাম লামা।
চিন আরও রেগে যায় যখন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, দলাই লামার পুনর্জন্ম বিষয়ে সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। চিন পাল্টা জানায়, এমন মন্তব্য ভারতের পক্ষ থেকে উচিত হয়নি এবং তিব্বত সংক্রান্ত ইস্যুতে সতর্কভাবে এগনোর জন্য নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করে তারা।