লাভ জিহাদ বন্ধে উত্তরপ্রদেশের পর বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্য আইন করেছে। বিজেপির দাবি, মুসলিম পুরুষেরা হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করছে। এটা ধর্মান্তকরণের এক কৌশল। বিজেপি, এটা কি লাভ জিহাদ বলে থাকে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
শেষ আপডেট: 23 October 2025 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন করতে চলেছে অসমের বিজেপি সরকার (Assam BJP)। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himant Biswa Sharma) জানিয়েছেন আগামী মাসে বিধানসভায় দুটি বিল এনে লাভ জিহাদ (Love Jihad) এবং বহুবিবাহ (Polygamy) আইনি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে আদিবাসী চা শ্রমিকদের জমির অধিকার দেওয়ার বিলও পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
লাভ জিহাদ বন্ধে উত্তরপ্রদেশের পর বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্য আইন করেছে। বিজেপির দাবি, মুসলিম পুরুষেরা হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করছে। এটা ধর্মান্তকরণের এক কৌশল। বিজেপি, এটা কি লাভ জিহাদ বলে থাকে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ লাভ জিহাদ বন্ধে আইন করেন। উত্তরপ্রদেশে দেখাদেখি বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্য একই পথে হাটে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হতে চলেছে অসম।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন রাজ্যে মুসলিমদের জনসংখ্যা দ্রুতহারে বাড়ছে। এর ফলে রাজ্যের জন বিন্যাসের যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে তা বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তিনি বারে বারেই মুসলিম সমাজকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আর্জি জানিয়ে আসছিলেন।
এর আগে দু'বছর ধরে রাজ্যে কম বয়সে বিয়ে আটকাতে পদক্ষেপ করে তার সরকার। ১৮ বছরের কম বয়সি বিবাহিত নারীর স্বামীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকেই মুসলিম সমাজের প্রতি একাধিক বিয়ে বন্ধের আর্জি জানিয়ে আসছিলেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। তার সরকারের বক্তব্য এর ফলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে এবং বহু নারীর জীবন বিপন্ন হয়।
বিরোধী দলগুলি এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য মনে পড়ছে অসম সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে ভোট মেরুকরণের অঙ্ক কাজ করছে। বহুদিন ধরেই অসম সরকার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতো ইস্যুতে মুসলিম সমাজকে কাঠগড়ায় তুলে আসছে। হিন্দু ভোটকে বিজেপির পক্ষে এককাট্টা করতেই মুসলিমদের নিশানা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের অভিযোগ। অসমের জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ সংখ্যালঘু। বিধানসভার দুটি নির্বাচনে বিজেপি সেখানে স্বস্তিদায়ক মার্জিন এর জয় লাভ করে সরকার পরিচালনা করছে।
তবে বিগত নির্বাচন গুলি তুলনায় অসমে কংগ্রেস এবার ভাল অবশ্যই আছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে লোকসভার উপ দলনেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগনের পুত্র গৌরব গগৈকে দল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার পরই হাত শিবির নতুন করে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে। মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই বিধানসভা ভোটের চার-পাঁচ মাস আগে সংখ্যালঘুদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে এমন দুটি আইন পাস করাতে চলেছে বিজেপি সরকার।