২০২২-এ সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীর নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল দেশ জুড়ে। হিংসাত্মক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানান প্রান্তে। চাপের মুখে তখন ভারত সরকার বেশ কিছু সংশোধনী এনেছিল অগ্নিবীরদের চাকরির শর্তে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 October 2025 08:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের (Rajasthan) জয়সলমেরে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে আর্মি কমান্ডার্স কনফারেন্স (Army Conference)। দু'দিনের এই কনফারেন্সে এবার অন্যতম আলোচ্য অগ্নিবীরদের (Agniveer) অন্তত ৭৫ শতাংশকে স্থায়ীভাবে সেনায় রেখে দেওয়ার প্রস্তাব। এখন চাকরির চার বছরের মাথায় ৭৫ শতাংশকে বসিয়ে দেওয়া হয়। পাকা চাকরির জন্য রেখে দেওয়া হয় ২৫ শতাংশকে।
সেনাকর্তারা এই অনুপাত উল্টে দিতে চাইছেন। তাদের প্রস্তাব হল ২৫ শতাংশকে বসিয়ে দিয়ে ৭৫ শতাংশ কে রেখে দেওয়া। জানা যাচ্ছে, অপারেশন সিঁদুর অভিযানের (Operation Sindoor) পর থেকেই বাহিনীতে এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল। তিন বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এই বিষয়ে সহমত হওয়ার পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার জয়সলমেরের আর্মি কমান্ডারস কনফারেন্সে পেশ হতে চলেছে।
২০২২-এ সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীর নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল দেশ জুড়ে। হিংসাত্মক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানান প্রান্তে। চাপের মুখে তখন ভারত সরকার বেশ কিছু সংশোধনী এনেছিল অগ্নিবীরদের চাকরির শর্তে। তার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি ছাড়াও ছিল চাকরির মেয়াদ তিন বছর থেকে বৃদ্ধি করে চার বছর করা।
তখনও দাবি উঠেছিল, এই নবীন সেনাদের অধিকাংশকে মূল সেনাবাহিনীর অংশ করে নেওয়ার। কিন্তু সেনাকর্তারা তখন এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তাঁরা বুঝে নিতে চাইছিলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে অগ্নিবীর নিয়োের সিদ্ধান্ত হয়েছে তা কতটা সফল হয়।
সরকারি সূত্রে খবর, চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন দিনের সামরিক সংঘাতে এই নবীন সেনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তারপর থেকেই বাহিনীর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সেনাদের ৭৫ শতাংশকে চার বছর পর বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। শীর্ষ সামরিক কর্তারা মনে করেন, দুই তৃতীয়াংশকেই বাহিনীতে রেখে দেওয়া যেতে পারে।
জয়সলমেরের আর্মি কমান্ডার্স কনফারেন্সে আরও একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তা হল অগ্নিবীরদের শুরু থেকেই তিন বাহিনীর মধ্যে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। যাতে যুদ্ধবিগ্রহের সময় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের ব্যবহার করা যেতে পারে। তিন বাহিনীর প্রাথমিক যুদ্ধ কৌশল শেখা থাকলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হয়ে যায়।
অপারেশন সিঁদুরে প্রায় সাড়ে চার হাজার অগ্নিবীর অংশগ্রহণ করেছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে তিনদিনের সংঘর্ষে তাঁদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর সদর দফতর এই মর্মে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে রিপোর্ট দেয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বাহিনীর প্রধানই রিপোর্টে অগ্নিবীরদের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশও করেন। সেই সঙ্গে তাদের পাকা চাকরিতে রেখে দেওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশও করা হয়।
অগ্নিবীর নিয়োগ শুরু হয় ২০২২ সালে। ২০২৬-এর শেষ দিকে প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তার আগে তাঁদের চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে সেনা সদরের তরফে।
চুক্তিতে সেনা নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছিলেন বিরোধীরা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল এরফলে সেনা বাহিনীর সক্ষমতা দুর্বল হবে। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা ভিন্ন।
সেনাবাহিনীর প্রদস্থ কর্তাদের বক্তব্য, মাত্র চার বছর চাকরির পর ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে রেখে বাকিদের বিদায় দেওয়া মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। চার বছরে তাদের প্রশিক্ষণ এবং নকল যুদ্ধে যে অভিজ্ঞতা হয় তা সেনা আরও বহুদিন কাজে লাগাতে পারে। ফলে ২৫ শতাংশকে রেখে দেওয়ার ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করা দরকার। একই সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, দুটি প্রস্তাবই সরকার ও সেনার বিবেচনাধীন আছে অগ্নিবীর ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই। অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ সহজ করে দিল।