বাংলাদেশ যেন মনে রাখে ভারতের একটি চিকেন্স নেক থাকলে, তাদের দেশে এমন দুটি কৌশলগত দুর্বল করিডর আছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 May 2025 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বেলাগাম’ কথায় অভ্যস্ত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে কার্যত ‘গৈরিক হুমকি’ দিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মোরগ-কণ্ঠের (Chicken’s Neck) টুঁটি চেপে ধরা নিয়ে যেমন বাংলাদেশ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলেছে, তার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী।
হিমন্ত এক বার্তায় বলেছেন, বাংলাদেশ যেন মনে রাখে ভারতের একটি চিকেন্স নেক থাকলে, তাদের দেশে এমন দুটি কৌশলগত দুর্বল করিডর আছে। যা ভারতের একটির চেয়েও বেশি দুর্বল। তাঁর কথায় যারা ভারতের মোরগের গলার মতো অত্যন্ত সরু করিডর নিয়ে হুমকি দিতে অভ্যস্ত, সেই পড়শি দেশ যেন মাথায় রাখে যে, এর থেকেও দুর্বল দু-দুটো সরু করিডর তাদের দেশেও আছে। যা তাদের নিরাপত্তার পক্ষে ভয়ঙ্কর হতে পারে।
প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ির কাছে বিমানঘাঁটি, বন্দর তৈরির জন্য চিনের কাছে অনেকদিন ধরেই হাত পেতে ভিক্ষা চেয়ে চলেছে বাংলাদেশের তদারকি সরকার। এমনকী দুঃসাহস দেখিয়ে মহম্মদ ইউনুস এ পর্যন্তও বলেছেন যে, সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশই রাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশের জল করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ভারতও সরকারিভাবে তার জবাব দিয়েছে।
পহলগাম কাণ্ডের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন সিঁদুর ও তার পরবর্তী চারদিনের ভারত-পাক সংঘর্ষে ইসলামাবাদের কার্যত নতিস্বীকারের পর থেকে বিজেপি শিবিরে এক জয়ের উন্মাদনার ছাপ পড়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মধ্যেও সেই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে এই কথায়। কারণ, ইউনুস যে করিডরের ইঙ্গিত করেছেন, তার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অসম সহ সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সড়ক বাণিজ্য নীতি। সে কারণে, বাংলাদেশ সরকার যদি সেরকম কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, ভারত কী করতে পারে, সেকথাই সরাসরি হুঁশিয়ারির সুরে সমঝে দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
শিলিগুড়ি করিডর হল ২২-৩৫ কিমি চওড়া। আর এই পথ দিয়েই প্রতিদিন যোগাযোগ বজায় থাকে উত্তর-পূর্বের সাত বোনের সঙ্গে বাকি দেশের। বিশ্ব শর্মার কথায়, বাংলাদেশে এরকম দুটি মোরগ-কণ্ঠ করিডর রয়েছে। প্রথমটি হল ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মেঘালয়ে দক্ষিণ-পূর্ব গারো হিলস পর্যন্ত ৮০ কিমি। যা বাংলাদেশের উত্তর বাংলাদেশে পড়ে। এখানে কোনও ঝামেলা পাকলে ঢাকার সরকার যেন মনে রাখে তাতে রংপুর ডিভিশন সমগ্র বাংলাদেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়টি আরও ছোট। তার নাম চট্টগ্রাম করিডর, মাত্র ২৮ কিমি চওড়া। এটা ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। এটা ভারতের করিডরের থেকেও ছোট। তবে চট্টগ্রাম বন্দর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেদেশের অর্থনৈতিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজনৈতিক রাজধানী ঢাকাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তিনি বলেন, আমি তো কেবলমাত্র ভৌগোলিক চিত্র তুলে ধরলাম। কারণ অনেকে এটা ভুলে গিয়েছেন। আমাদের শিলিগুড়ি করিডর একটা সরু নিগর্মণ পথ হলে কারও কারও দেশে এরকম দুটো সরু পথ আছে। যা বন্ধ হলে অর্থনীতিও মাঠে মারা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের রবিবার বলেন, যদি বাংলাদেশ আমাদের চিকেন্স নেক-এ হামলা করে, তাহলে আমরা বাংলাদেশের ওই দুটি করিডর ঘেরাও করে দেব। ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত এই করিডর বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুলে পড়বে।
অপারেশন সিঁদুরের দৃষ্টান্ত তুলে বিশ্ব শর্মা দাবি করে বলেন, বাংলাদেশ যেন ভারতের সামরিক ক্ষমতা আন্দাজের মধ্যে রাখে। ভারত পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে ১১টি সেনা ও বায়ুসেনা ঘাঁটি নষ্ট করে দিয়েছে। সেই হিসাবে ভারতকে আক্রমণ করতে হলে বাংলাদেশের ১৪ বার জন্মাতে হবে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই হুঁশিয়ারির কারণ হল, শোনা যাচ্ছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি লালমুনিরহাট এয়ারবেসকে চিনের অর্থসাহায্যে নতুন করে গড়ে তুলতে চাইছে বাংলাদেশ, যা শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ১০০ কিমি দূরে।