ইউনুস ফের আওয়ামী লিগ তথা শেখ হাসিনাকেও ঘরোয়া বৈঠকে নিশানা করেছেন। বলেছেন, আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দেশের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইউনুস-মোদী-হাসিনা
শেষ আপডেট: 26 May 2025 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের শাসকদের ভারত বিরোধিতা (anti India stand by Bangladesh rulers) নতুন নয়। আওয়ামী লিগ (Awami League) বাদে বাকি সব দলই দেশে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত গরম, বেশি ঠান্ডা পড়লে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে এসেছে। ভারত বিরোধিতার সেই দৌড়ে মহম্মদ ইউনুস সম্ভবত সব দলকেই ছাপিয়ে গিয়েছেন। গত নয়-সাড়ে নয় মাসে পদে পদে দিল্লির ষড়যন্ত্র এবং ভারতের আধিপত্যবাদের (India’s hegemony) কথা বলেছেন তিনি। এবারও গদি বাঁচাতে একই রাস্তায় হাঁটলেন। তাঁর সরকারের প্রতি বিএনপি ও সেনাপ্রধানের অনাস্থা ঘিরে মঞ্চস্থ ‘পদত্যাগ’ নাটককে (resignation drama) মান্যতা দিতে বিভিন্ন দলের নেতাদের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, চলতি অস্থিরতার পিছনে রয়েছে ভারতীয় আধিপত্যবাদ।
ইউনুস ফের আওয়ামী লিগ তথা শেখ হাসিনাকেও ঘরোয়া বৈঠকে নিশানা করেছেন। বলেছেন, আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দেশের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম (Shafiqul Alam, the Press secretary to the Bangladesh Chief Advisor) জানান, ইউনুসকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, এ সব করা হচ্ছে, দেশকে পিছিয়ে দেওয়া এবং গোলামিতে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য।
শফিকুল আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, দেশ বড় যুদ্ধাবস্থার ভেতরে আছে। আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার সব রকম চেষ্টা করছে। এ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, বিভাজন থেকে উদ্ধার পেতে হবে এবং ঐকমত্য থাকতে হবে। সবাই একসঙ্গে বসাতে তিনি মনে সাহস পেয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না করতে পারলে তিনি অপরাধী অনুভব করবেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারত ও হাসিনা বিরোধিতার কার্ড খুব বেশি দিন কাজে আসবে না ইউনুসের। এবারের পদত্যাগের হুমকি যে বিশুদ্ধ নাটক তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সব মহলেই।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছে আওয়ামী লিগও। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গির কবীর নানক বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অবৈধ দখলদার ইউনূস সরকারের পদত্যাগের দাবিতে, অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের দেশে অন্ধকারের কানাগলিতে জোনাকি হয়ে আলো জ্বালানোর চেষ্টারত আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীরা। গণতন্ত্র ও মানুষের মুক্তির আলো জ্বালতে গিয়ে নিভে গেছে অনেক নেতাকর্মীর জীবন প্রদীপ। তার পরও তাঁরা অকুতোভয় ও নির্ভীক থেকে রাষ্ট্রের উপর জগদ্দল পাথরের ন্যায় চেপে বসা অবৈধ দখলদার ইউনুস গংদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই মবসন্ত্রাস ও ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিকভাবে অবৈধ ও জনগণের ম্যান্ডেটহীন ফ্যাসিস্ট ইউনুস সরকার অবৈধভাবে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়া খানও আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ করেছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আওয়ামী লীগ সেই নিষেধাজ্ঞার অর্গল ভেঙে বার বার স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সেনাপ্রধান ও বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের দাবিতে চাপ তৈরির পর গত সপ্তাহে ঘনিষ্ঠ মহলে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ইউনুস। পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ফের সব দলের সঙ্গে বৈঠক করে সমর্থন আদায়ের রাস্তায় হাঁটেন। রবিবার কুড়িটি দলের সঙ্গে বৈঠকে ইউনুস ভারতের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান। যদিও সরকারের তরফে কেউ বাইরে কেউ এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনুস আলোচনা শুরু করেছেন এ কথা বলে যে আমরা অনেক বড় সংকটের মধ্যে আছি। এ সংকট বলতে তিনি প্রধানত ভারতীয় আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদ আমাদের দেশের পরিবর্তনকে একেবারেই স্বীকার করতে চায় না, পারলে আমাদের এক দিনে ধ্বংস করে দিতে চায়। সে জন্য যা যা করা দরকার, সবই তারা করছে—এই ছিল অধ্যাপক ইউনুসের কথা।’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতের ষড়যন্ত্র এবং শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের প্রত্যাবর্তণের ভয় দেখিয়ে ইউনুস আসলে বাকি দলগুলিকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এযাত্রাতেও তিনি খানিক সফল।