আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক কে? দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের অনেকেই এখন আর ওয়াবদুল কাদেরের (Obaidul Quader) নাম মনে করতে পারেন না।

শেষ আপডেট: 25 May 2025 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক কে? দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের অনেকেই এখন আর ওয়াবদুল কাদেরের (Obaidul Quader) নাম মনে করতে পারেন না। তিনি সরকারিভাবে ওই পদে হলেও দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিগত নয়-সাড়ে নয় মাস যাবত তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে। এমনকী তাঁর কণ্ঠস্বরও কেউ শোনেনি। সভানেত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম (Bahauddin Nachhim), জাহাঙ্গির কবীর নানকের (Jahangir Kabir Nanok) মতো নেতারা নিয়মিত দলের সমাজমাধ্যমে এবং দিনরাত এক করে ব্যক্তিগত স্তরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে গেলেও ওয়াবদুল কাদের ছিলেন ‘নিরুদ্দেশ’। রবিবার সেই নিরুদ্দেশ সাধারণ সম্মাদকের নামে প্রেস বিবৃতি প্রচার করল আওয়ামী লিগ (Awami League)।
দলীয় সুত্রে জানা যাচ্ছে দল নেত্রী হাসিনার সম্মতি নিয়েই বিবৃতি প্রচার করা হয়। জল্পনা শুরু হয়েছে হঠাৎ কেন সামনের সারিতে ফেরানো হল কাদেরকে। আওয়ামী লিগে নেতৃত্ব বদল নিয়ে কয়েক মাস ধরেই দলের একাংশের তৎপরতার কথা শোনা যাচ্ছিল। কাদেরকে সরিয়ে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড় শুরু হয় নেতাদের মধ্যে। অনেকে মনে করছে, পদ নিয়ে ইঁদুর দৌড় বন্ধ করতেই নিষ্ক্রিয় কাদেরকে সক্রিয় হতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন হাসিনা।
বিবৃতিতে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক তথা হাসিনা সরকারের সেতমন্ত্রী ওয়াবদুল কাদের বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের ‘পদত্যাগ নাটক’ নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট ইউনূস অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন এই সরকারের দায় দেশের জনগণের নিকট নয়। বরং তাদের বিদেশি প্রভুদের নিকট। গত নয় মাসে জনগণের কল্যাণে তারা কিছু করতে না পারলেও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার সকল কাজ করে গেছে।
কাদের আরও বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। করিডোর দিয়ে বহির্শক্তির আগ্রাসনকে অনুমোদন এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়াসহ দেশ বিক্রির সকল পরিকল্পনা জনগণের সামনে ফাঁস হয়ে গেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে যে জাদুকরের মতো চাতুর্যপূর্ণ কৌশল প্রয়োগ করে তাদের প্রতারণাপূর্ণ ফাঁদে ফেলে হয়েছিল। সেই ভ্রমের পর্দা সরিয়ে জনগণ সবকিছু স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে বলে তারা এই সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। তাই সবকিছু আড়াল করতে এবং জনরোষ থেকে বাঁচতে অবৈধ দখলদার ইউনূস মিথ্যা পদত্যাগের নাটক মঞ্চস্থ করেছে এবং তার সরকারের প্রযোজনায় গঠিত ও পরিচালিত সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি উগ্র-সাম্প্রদায়িক শক্তির দলগুলোকে নিয়ে গণবিরোধী শিবিরের শক্তি প্রদর্শন করে জনগণকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে।
আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, এখন সময় পতনের এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংয়ের পতন ঘটাবে।
ওয়াবদুল কাদেরের এই বিবৃতি নিয়ে আওয়ামী লিগের অন্দরেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। হাসিনা সরকারের পতনের জন্য দলের সিংহভাগ নেতা যে ক’জনকে ‘ভিলেন’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে কাদের তাঁদের অন্যতম। শীর্ষ ও মাঝারি স্তরের নেতাদের বক্তব্য, কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় কাদের দল, দলের ছাত্র ও যুব সংগঠন, এমনকী প্রশাসনকেও ভুল পথে চালিত করেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রিসভার দু-নম্বর ব্যক্তি হিসাবে কাদেদের উপর নির্ভর করেছিলেন দলনেত্রী তথা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক দল ও সরকারকে ডুবিয়েছেন বলে দলের বড় অংশের অভিযোগ।
দলের ওই অংশের আরও বক্তব্য, গত বছর ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগেই কাদের গা ঢাকা দেন। পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতায় বেশ কয়েকমাস দেশ লুকিয়ে থাকার পর পরিচয় ও চেহারা বদলে সীমান্ত পার হন। অসুস্থ কাদের আপাতত অনেকটা সুস্থ। কিন্তু দলের অন্দরে তাঁকে নিয়ে ক্ষোভ থাকায় হাসিনাই সাধারণ সম্পাদককে এতদিন মুখ খুলতে নিষেধ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
আওয়ামী লিগ সুত্রে জানা যাচ্ছে, রবিবার ওয়াবদুল কাদেরের বিবৃতি প্রচারের আগে নেতারা দলনেত্রী শেখ হাসিনার মতামত চান। হাসিনা নেতাদের বলেন, কাদের এখনও দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আছে। সে দলের হয়ে বিবৃতি দিতে চাইলে নিষেধ করার সুযোগ নেই। জানা যাচ্ছে, দলের নীচুতলায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এমন কথাও দলনেত্রীকে বলা হয়। হাসিনা বলেন, একটা বিবৃতি কাদেরের নামে প্রচার করে দেখা যাক কী প্রতিক্রিয়া হয়।
আওয়ামী লিগ সুত্রে জানা যাচ্ছে, বিবৃতি দিতে চেয়ে কাদের দলনেত্রীকে ফোনে অনুরোধ করেন। হাসিনা তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীর আর্জি রেখেছেন। মুক্তিযোদ্ধা কাদের আওয়ামী লিগের তিনবারের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ছাত্র লিগেরও দু’বার সভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর টানা আড়াই বছর জেলে ছিলেন আওয়ামী লিগের এই বর্ষীয়ান সাধারণ সম্পাদক।