মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব শর্মা বহুদিন থেকেই বলে আসছেন অসমিয়া ভাষী ভূমিপুত্র মুসলিমদের নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। 'মিঞাঁ' রা অসমের ভূমিপুত্র নন। তাদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের 'মিঞাঁ' মুসলমানদের বাংলাদেশে চলে যেতে বারে বারে চাপ দিচ্ছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Assam CM Himanta Biswa Sarma)। বাংলাদেশ (Bangladesh) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হবে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী 'মিঞাঁ' মুসলিম সম্প্রদায়কে বলছেন বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দিতে। আর বক্তব্য 'মিঞাঁ'দের অসমে ভোট দেওয়ার কোন অধিকার নেই।
এখানেই থেমে না থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত দলকে নির্দেশ দিয়েছেন 'মিঞাঁ' মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে যত বেশি সম্ভব ৭ নম্বর ফরম জমা করে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য আপত্তি নথিভুক্ত করতে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দারস্ত হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।
অসমে আগামী মার্চ এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকার নিবিড় বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর চলমান থাকলেও আসামে তা হচ্ছে না। ওই রাজ্যে ভোটের আগে যেভাবে রুটিন স্পেশাল ডিভিশন বা বিশেষ সংশোধনী হয়ে থাকে সেই কাজ চলছে। এসআইআর- এ যেভাবে নথি দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করতে হচ্ছে স্পেশাল ডিভিশনে ততটা কড়াকড়ি নেই। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত সম্প্রতি একাধিক সবাই বলেছেন, এসআইআর না হওয়ায় অসমের ভোটার তালিকায় বহু বাংলাদেশির নাম থেকে যাওয়া অসম্ভব নয়। তিনি দলকে বলেছেন যত বেশি সম্ভব আপত্তি জানিয়ে বাংলাদেশিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে।
ফারসি শব্দ 'মিঞাঁ' অর্থ হল সম্মানীয় ব্যক্তি। কাউকে সম্বোধন করার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন বাঙালি অবাঙালি নির্বিশেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে অসমে এই শব্দটির একটি ভিন্ন প্রয়োগ আছে। সন্দেহজনক বাংলাদেশি মুসলিমদের কটাক্ষ করতে 'মিঞাঁ শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ব শর্মা বহুদিন থেকেই বলে আসছেন অসমিয়া ভাষী ভূমিপুত্র মুসলিমদের নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। 'মিঞাঁ' রা অসমের ভূমিপুত্র নন। তাদের বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে।
বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত রাজ্যকে 'মিঞাঁ' অর্থাৎ বাংলাভাষী মুসলিম মুক্ত করতে নানাভাবে উসকানি দিচ্ছেন। তিনি চাইছেন, পদে পদে নির্যাতনের মুখে সন্দেহজনক বাংলাদেশি মুসলিমরা যেন সে দেশে ফিরে যায়। যদিও তাঁর এই দাবি নিয়ে বিস্তর আপত্তি আছে। মুখ্যমন্ত্রী যাদের বাংলাদেশি বলছেন তাদের অনেকেই নথিপত্র দেখিয়ে অসমের এনআরসি ট্রাইব্যুনালের সামনে নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করেছেন। এই দৃষ্টান্ত হাতিয়ার করে অসম প্রদেশ কংগ্রেস গুয়াহাটি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে বলেছে অসমে বহু নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। শীর্ষ আদালত যেন শাসকদলের অপচেষ্টা ভেস্তে দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়।