ওই ছ'মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ মেনে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন গুলি কার্যকর করবে বলে একাধিক সূত্রের খবর।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে 'হ্যাঁ' -এর পক্ষে বেশি ভোট পড়লে আরও অন্তত ছ মাস ক্ষমতায় থাকবে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার (Yunus Government)। ওই ছ'মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ মেনে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন গুলি কার্যকর করবে বলে একাধিক সূত্রের খবর।
সরকারের এমন ভাবনার কথা প্রথম উঠে আসে সংবিধান সংশোধন কমিশনের চেয়ারম্যান তথা জাতীয় ঐক্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলি রিয়াজের কথায়। তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর তাদের প্রথম কাজ হবে সংবিধান সংশোধন করা। সেজন্য নতুন সংসদ প্রথমে গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। সংবিধান সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করবে অন্তর্বর্তী সরকার (Bangladesh interim Government)।
আলি রিয়াজের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠিত হবে কবে?
জুলাই সনদে উল্লেখ আছে নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলি কার্যকর করতে হবে। কোনও কারণে সেই কাজ ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন না করা গেলে সরকার ধরে নেওয়া হবে সংশোধনীগুলি কার্যকর হয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে সংশোধনীগুলি কার্যকর করবে কোন সরকার? অধ্যাপক আলি রিয়াজের কথা থেকে জল্পনা ছড়ায় মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারই সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবে। সভাপতি প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসছে না?
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস উইং অবশ্য দাবি করেছে এই জল্পনা ভিত্তিহীন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা সরকার গঠনের পর পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু করবে।
তবে এরপরেও নির্বাচিত সরকার গঠন নিয়ে জল্পনা দূর হয়নি। তার প্রধান কারণ গণভোটে 'হ্যাঁ'-তে টিক অর্থাৎ সংস্কার প্রস্তাবগুলিকে সমর্থন করতে দেশবাসীর প্রতি আর্জি জানিয়েছেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া সরকারি প্রশাসন যন্ত্র থেকেও নানাভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে ভোট দিতে। এ নিয়ে নানা মহল থেকে আপত্তি ওঠার পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এক নির্দেশ জারি করে বলেছে সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকেরা এই ধরনের প্রচার চালাতে পারবেন না। তারা শুধুমাত্র মানুষকে ভোট দানের উৎসাহিত করতে পারবেন। 'হ্যাঁ' বা 'না' কোন দিকে মানুষ ভোট দেবেন সে ব্যাপারে সরকার কোন পরামর্শ দিতে বা প্রচার চালাতে পারেনা।
যে চারটি প্রশ্নকে সামনে রেখে বাংলাদেশে গণভোট হতে যাচ্ছে সেগুলি হল,
ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা এই প্রস্তাবগুলি সমর্থন করেন কিনা। চারটি প্রস্তাব ব্যালট পেপারে লেখা থাকবে। ভোটারদের 'হ্যাঁ' অথবা 'না' যে কোন একটিতে টিক দিতে হবে।