এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটারদের দুটি করে ব্যালটে ভোট দিতে হবে। একটি হবে সাংসদ নির্বাচনের জন্য। অপরটিতে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গণভোট (referendum) নেওয়া হবে। সেটিতে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' লেখা খোপে ভোটারদের টিক দিতে হবে।

শেষ আপডেট: 29 January 2026 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করতে পারেন সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (Bangladesh Minorities may boycott parliamentary election, 2026 I protest of communal violence)। নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংখ্যালঘুরা প্রবল সংখ্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (Hindu Boudhyo Khristan Unity Council)। সংখ্যালঘুদের বৃহত্তম এই সংগঠন অভিযোগ করেছে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুতা বুথে নাও যেতে পারেন। ওই সংগঠন খুব জোরালো ভাষায় গণভোট নিয়েও আপত্তি তুলেছে। যে বিষয়গুলির ওপর গণভোট হচ্ছে তা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ বিরোধী। প্রসঙ্গত এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটারদের দুটি করে ব্যালটে ভোট দিতে হবে। একটি হবে সাংসদ নির্বাচনের জন্য। অপরটিতে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত গণভোট (referendum) নেওয়া হবে। সেটিতে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' লেখা খোপে ভোটারদের টিক দিতে হবে।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেছে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্যের কারণে ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতা শুধু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে না, এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর ধর্মীয় আঘাত হানছে। এর ফলে সংখ্যালঘু নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে ভয়ানক রকমের ভীতি ও সংখ্যা তৈরি হচ্ছে। এই ধরনের ঘৃণা ও উস্কানি মূলক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রকারান্তরে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করছে যা খুবি উদ্বেগ জনক ও নিন্দনীয়।
সংগঠনটি বলেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি এখনো গত বছরের মতো চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক হিংসার ৪২টি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হত্যা ১১টি, ধর্ষণের ঘটনা একটি। মন্দির-গির্জায় হামলা, লুটপাটের ঘটনা নয়টি। বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, জমি দখলের ঘটনা ২১টি।
ওই সংগঠনের বক্তব্য এন ও পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল কেউই সংখ্যালঘুদের মনে কোনরূপ আসা ও আস্থা জাগাতে পারছে না। আগামী নির্বাচনে আপামর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভোটদানের মাধ্যমে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগে উন্মুখ। কিন্তু কোনভাবেই জীবনজীবিকা সম্পদ ও সম্ভ্রম নিয়ে তাদের সংখ্যা ও উদ্বেগ কাটছে না। যা ভোটদানে তাদের নিউ উৎসাহিত করতে পারে। এজন্যে তাদেরকে দায়ী করা যাবে না কিছুতেই। এর দায় নিতে হবে সরকার প্রশাসন নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলিকে।
শেষ পর্যন্ত সংখ্যালঘুরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করলে তা হবে বাংলাদেশে এক অভিনব ঘটনা। ওই দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবারের মত পরিস্থিতি অতীতে কখনো ছিল না বলে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন। সে দেশে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুরা আওয়ামী লিগকে টানা সমর্থন করে গিয়েছে বলে অন্য দল গুলি অভিযোগ করে থাকে। বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, সংখ্যালঘুরা কোন একটি দলের ভোটদাস নয়। তবে তারা ভোটদানের সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অর্জনকে বিবেচনায় রেখে তাদের মতামত প্রকাশ করে থাকে। সেই কারণে কোন দল সংখ্যালঘুদের সমর্থন বেশি পেয়ে থাকতে পারে। কিন্তু সংগঠনগতভাবে কোন দলকে নির্বাচনের সমর্থন করার সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘুরা কোনও দিন নেয়নি।
ওই সংগঠন গণভোট নিয়ে বলেছে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের নামে যুক্ত হয়েছে হ্যাঁ ও না ভোট। সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। যার পক্ষে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রচারণা চালাচ্ছে, যা দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক এবং নিতান্তই পক্ষপাত দুষ্ট বলে আমরা মনে করি। সংগঠনটির বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের বদ্ধ দিয়ে তৎকালীন সময়ে সাড়ে সাত কোটি মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষা এবং ৩০ লক্ষ শহিদের স্বপ্নের উপর ভিত্তি করে অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বৈষম্যহীন বাংলাদেশের সংবিধান আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। যা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সম অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং তার নিজ পছন্দ অনুযায়ী ভোট প্রদান একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সংগঠনটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের তরফে ৮ দফা দাবি পত্র পেশ করে রাজনৈতিক দলগুলিকে আর্জি জানিয়েছে তারা যেন সেগুলি নির্বাচনী ইস্তাহারে অন্তর্ভুক্ত করে। এগুলি হলো অনতিবিলম্বে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়কে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বিবেচনায় তাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে।
নির্বাচনের পূর্বাপর বিভিন্ন ট্যাগ লাগিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিগ্রহ নিপীড়ন ও নির্যাতন করা হবে না এই মর্মে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে অঙ্গীকার করতে হবে।
তাদের আরো দাবি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। গঠন করতে হবে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়।