ভারতকে কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত ইউনুস সরকারের। পাকিস্তান ও চিনের সহায়তায় চট্টগ্রামে অস্ত্র কারখানা গড়ার পরিকল্পনা ঘিরে বাড়ছে ত্রিপুরা সীমান্তের উদ্বেগ।
.jpeg.webp)
মোদী-ইউনুস
শেষ আপডেট: 27 January 2026 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চট্টগ্রামের মিসরাইয়ে একটি অস্ত্র কারখানা গড়তে চায় বাংলাদেশ সরকার। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সোমবার রাতে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির জন্য বরাদ্দ ৯০০ একর জমিতে অস্ত্র কারখানা গড়ে তোলা হবে। মূলত কামান এবং গোলাবারুদ তৈরির জন্য ওই কারখানা স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ।
ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের এক পদস্থ কর্তা বলেছেন বিশ্ববাজারে এখনও কামান এবং গোলাবারুদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ এতদিন যাবতীয় যুদ্ধাস্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করে চলেছে। এবার তারা রপ্তানির পথেও যাবে।
উপদেষ্টা মণ্ডলীর ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে দুটি কারণে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। প্রথমত অস্ত্র কারখানা গড়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের নেই। দ্বিতীয়ত ওই কারখানাটি গড়ে তোলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত সীমান্তকে। চট্টগ্রাম ভারতের ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্যে লাগোয়া একটি বন্ধুর শহর।
জানা যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাবিত অস্ত্র কারখানাটি তৈরিতে পাকিস্তান এবং তুরস্ক অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। দুই দেশের সামরিক কর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের আলোচনায় এই প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ওই জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে কলকারখানা গড়ে তোলার পর রপ্তানি করতো। ভারত সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব নিয়েছিল। ২০২৪ এ অগাস্টে বাংলাদেশে পালাবদলের পর থেকে ওই প্রকল্প নিয়ে আর দু দেশের মধ্যে কোনও অগ্রগতি হয়নি। সেই জমিকেই অস্ত্র কারখানা তৈরির জন্য বরাদ্দ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দোরগোড়ায়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে ভোট হলে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব নেওয়া হয়ে যাবে। এই সময় বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার কি করে অস্ত্র কারখানার তৈরির মতো প্রকল্পে সায় দিল তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহল বিস্মিত। মনে করা হচ্ছে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই পাকিস্তান তুরস্ক ও চিন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে তৎপর হয়ে উঠেছে। চিনের মদতে এই দেশগুলি ন্যাটোর মতো একটি সামরিক জোট গড়ে তোলারও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে খবর।