মোদীর সঙ্গে যখন চিনা ও রুশ প্রেসিডেন্টের বন্ধুত্ব নিবিড় হচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতকে ফের বন্ধু বলে গলা জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করল আমেরিকা।

চিনে গিয়ে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সখ্য প্রমাণ করে দিয়েছেন মোদী।
শেষ আপডেট: 1 September 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলন শেষ করে দেশে ফিরছেন। তাঁর এই সফরে পাকিস্তানি মদতে জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের কূটনৈতিক জয় হাসিল করেছেন তিনি, এমনটাই মনে করছে কূটনীতিক মহল। মোদীর সঙ্গে যখন চিনা ও রুশ প্রেসিডেন্টের বন্ধুত্ব নিবিড় হচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতকে ফের বন্ধু বলে গলা জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করল আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোমবার শুল্কচাপের পরিবেশের মধ্যেও নয়াদিল্লিকে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়ে ভবিষ্যতেও তা চলবে বলে জানিয়েছে।
সোমবার এক এক্সবার্তায় মার্কিন দূতাবাস সেদেশের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে উদ্ধৃত করে ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। পোস্টে লেখা হয়েছে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সহযোগিতা চলছে এবং তা এক নয়া শিখরে পৌঁছবে। একুশ শতকের পৃথিবীতে এটা এক নয়া সংজ্ঞা দেবে। এছাড়াও ভারতে থাকা মার্কিন দূতাবাসের তরফে গদগদ ভাষায় এই সম্পর্কের ভূয়সী তারিফ করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে যখন এই বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে, তার খানিক আগেই চিনে গিয়ে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সখ্য প্রমাণ করে দিয়েছেন মোদী। এমনকী এদিন তাঁর ভাষণের পরেই এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি কাশ্মীরে পহলগাম জঙ্গিহানার তীব্র নিন্দা করেছে। শিয়ের দেওয়া গাড়িতে চড়েছেন মোদী। শুধু তাই নয়, একই গাড়িতে পাশাপাশি বসে বৈঠকস্থলের দিকে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রুশ প্রেসিডেন্ট। এই তিনজনের ছবি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়ে আমেরিকাকে একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করেছে শুল্কচাপের পরিপ্রেক্ষিতে।
এদিন সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের ২৫-তম সম্মেলনে (SCO Summit) প্রথমে ভারত, তার পরক্ষণেই এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির কাছ থেকে সম্মিলিত ধাক্কা খায় পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বসিয়ে রেখে কাশ্মীরের পহলগামে জঙ্গিহানার তীব্র নিন্দা করে এসসিও। এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভাষণে যে কথা বলেছেন তার কয়েক মুহূর্ত পরেই ভারতের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে এসসিও। প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নাম না করেই বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কারও দুমুখো নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রায় একই সুরে মত দিয়েছে গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিও।
এসসিওর গোষ্ঠীভুক্ত সদস্য দেশগুলি সোমবার গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহলগামে জঙ্গিহানার তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছে। সদস্য দেশগুলি এই ঘটনায় মৃত ও ভুক্তভোগী পরিবারদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে। তারা এও বলেছে, এই জঙ্গি নাশকতার চক্রান্তকারী, সংগঠক এবং মদতদাতাদের বিচার কাঠগড়ায় আনা জরুরি। এসসিও দেশগুলি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে তাদের দায়বদ্ধতার উপর জোরাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসসিও মোদীর মতোই দাবিকে মান্যতা দিয়ে বলে, জঙ্গিদের কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।