ইসলামি কট্টরপন্থীদের প্রবল বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি জাভেদ ভুবনবিখ্যাত কবি, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারকে প্রধান অতিথি করে ‘মুশায়রা’ অনুষ্ঠানটি বাতিল করে দিল।

জাভেদ আখতার স্বঘোষিত নাস্তিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাপন্থী।
শেষ আপডেট: 1 September 2025 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামি কট্টরপন্থীদের প্রবল বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি জাভেদ ভুবনবিখ্যাত কবি, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারকে প্রধান অতিথি করে ‘মুশায়রা’ অনুষ্ঠানটি বাতিল করে দিল। এই উর্দু সাহিত্যসভায় যাতে ‘আল্লা-বিরোধী নাস্তিক’ জাভেদ আখতারকে কলকাতায় ঢুকতে না দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে হুমকি দিয়েছিল কয়েকটি কট্টর মুসলিম সংগঠন। আখতারকে নিয়ে আসা হলে তসলিমা নাসরিনকে যে ধরনের হিংসাত্মক প্রতিবাদ হয়েছিল, সেই ধরনের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সংগঠনগুলি।
‘হিন্দি সিনেমায় উর্দু’ শীর্ষক একটি সাহিত্যসভা ও আলোচনাকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি। ৩১ অগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুশায়রা ও আলোচনা চলার অনুষ্ঠানসূচি ছিল। কলকাতায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে চারদিন ব্যাপী ভারতীয় চলচ্চিত্রে উর্দুর ভূমিকার উপর আলোচনা, শায়েরি পাঠ এবং সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। সেখানে জাভেদ আখতারের মতো জ্ঞানীগুণি কবিকে ১ সেপ্টেম্বরের মুশায়রায় আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি করা হয়।
এরপরেই কলকাতা শাখার জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ ও ওয়াহায়িঁ ফাউন্ডেশন নামে দুই কট্টরপন্থী সংগঠন বিরোধিতায় নামে। তাদের অভিযোগ ছিল, জাভেদ আখতার মুসলিম ধর্ম ও আল্লার বিরুদ্ধে মুখে খোলেন। তিনি আল্লার উপর আস্থাশীল ও বিশ্বাসী নন, এরকম একজনকে কোনওভাবেই কলকাতার মাটিতে আসতে দেওয়া চলবে না।
জমিয়ত হুমকি দিয়ে বলে, উর্দু অ্যাকাডেমি যদি জাভেদ আখতারের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার না করে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ হবে। যেমনটা হয়েছিল ২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকাডেমির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, অনিবার্য কারণবশত অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখা হচ্ছে। দ্য হিন্দু সংবাদমাধ্যমকে একটি সূত্র জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার নির্বাচনের আগে কোনও উত্তেজনা বৃদ্ধিতে নারাজ। তাই সংঘাতে না গিয়ে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাভেদ আখতার স্বঘোষিত নাস্তিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাপন্থী। তিনি নিজেকে সংস্কৃতিবান মুসলিম বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমির সম্পাদক নুজরত জৈনাব বলেন, অনিবার্য কারণবশত চারদিনের অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমগুলি চাপ দেওয়ায় তিনি বারবার একই কথা বলেন। মানবাধিকার কর্মী শবনম হাসমি বলেন, ভারত হিন্দু রাষ্ট্রও নয়, মুসলিম দেশও নয়। যারা নাস্তিক বা ভগবান কিংবা আল্লায় বিশ্বাস রাখেন না, এদেশে তাঁদেরও জীবনধারণ ও বাকস্বাধীনতা আছে। তিনি আরও বলেন, অনেক ধর্মীয় রাষ্ট্রেও বহু মানুষ এমন আছেন যাঁরা কোনও ধর্মেই বিশ্বাস রাখেন না। কবি ও লেখক গওহর রাজা গোঁড়া মুসলিমদের ভয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করাকে নিন্দা করেন। বলেন, এটা খুবই বিরক্তিকর ও গ্রহণযোগ্য নয়।