ঘটনার সূত্রপাত ২০২১-২২ সালের দিল্লি আবগারি নীতিকে কেন্দ্র করে। আম আদমি পার্টি সরকারের আনা সেই নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে লাইসেন্স ফি কমানো এবং মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
শেষ আপডেট: 27 February 2026 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবগারি কেলেঙ্কারি (Delhi Liquor Policy Case) মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) এদিন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলছিলেন, কীভাবে একদিন তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। সেই আঘাত তাঁকে নাড়াতে পারেনি। কিন্তু প্রায় দু’বছর পর আদালতে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস পাওয়ার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না কেজরি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে চোখ ভিজে উঠল তাঁর।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১-২২ সালের দিল্লি আবগারি নীতিকে কেন্দ্র করে। আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party) সরকারের আনা সেই নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। অভিযোগ ছিল, নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে লাইসেন্স ফি কমানো এবং মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর ফলে দিল্লি সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ‘কিকব্যাক’-এর লেনদেন হয়েছে, এমনই দাবি ছিল সংস্থার। পরে ওই নীতি বাতিল করা হয়।
বেকসুর খালাস হওয়ার পর কেজরিওয়াল দাবি করেন, গোটা ঘটনাই ছিল তাঁকে এবং তাঁর দলকে শেষ করে দেওয়ার বৃহৎ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাঁর কথায়, দলকে ভাঙতে পাঁচ শীর্ষ নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে পদে থাকাকালীন এক মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ছ’মাস বন্দি রাখা হয়। প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া প্রায় দু’বছর জেলে ছিলেন। তাঁর দাবি, মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল। কেজরি বলেন, আদালত তাঁকে বলেছে তিনি কট্টর সৎ।
এই সময়েই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কেজরিওয়াল। এতদিন দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখলেও এদিন কথার মাঝেই গলা ভেঙে আসে তাঁর। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মনীশ সিসোদিয়া এগিয়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।
এদিন সকালে রাজধানীর একটি বিশেষ আদালত সিবিআই দায়ের করা মামলায় কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়াসহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে খালাসের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী সংস্থা একটি ষড়যন্ত্রের কাহিনি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ছিল অনুমাননির্ভর, সুস্পষ্ট প্রমাণভিত্তিক নয়। বিচারকের মতে, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই প্রাথমিকভাবে অপরাধের প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লির আবগারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনও সামগ্রিক ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি। বিচারকের স্পষ্ট মন্তব্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ আনার মতো উপযুক্ত তথ্য বা প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থাগুলি আদালতে উপস্থাপন করতেই পারেনি।
২০২৫ সালে দিল্লিতে বিধানসভা ভোটের আগে এই আবগারি কাণ্ডে তদন্ত নিয়েই আম আদমি পার্টিকে নাস্তানাবুদ করে রেখেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। প্রথমে উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করে তিহাড় জেলে রাখা হয়। তার পর গ্রেফতার করা হয় অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। তাঁকে জামিন দিলেও আদালত নির্দেশ দেয় মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে পারবেন না তিনি। এই রায়কে আম আদমি পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক স্বস্তি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।