জামির ও তুফাইল কেবল বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) পরিকল্পনায় নয়, আরও কয়েকটি সন্ত্রাসী চক্রের কার্যকলাপে যুক্ত ছিল।

দিল্লি বিস্ফোরণ
শেষ আপডেট: 26 February 2026 07:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের (Delhi Blast) তিনমাস পর গ্রেফতার আরও দুই। ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) নেপথ্যের জাল খুলতে খুলতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) জালে এল আরও দুই অভিযুক্ত। এনিয়ে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১।
মঙ্গলবার জামির আহমেদ আহাঙ্গার এবং তুফাইল আহমেদ ভাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে জামিরের বাড়ি কাশ্মীর (Kashmir) এবং আরেক ধৃত শ্রীনগরের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, এই দু'জনই বিস্ফোরণে মূল অভিযুক্ত উমরকে অস্ত্র জোগাড় করে দিত এবং হোয়াইট কলার মডিউলের (White Collar Module) সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
এনআইএ জানিয়েছে, ধৃত দু’জন Ansar Ghazwat-ul-Hind (AGH) সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সক্রিয় ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার (OGW)। তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে দেশের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল। দিল্লি বিস্ফোরণের মূল চক্রী উমর উন নবি (Umar Un Nabi) তাঁদের হাতে রাইফেল, পিস্তল তুলে দিয়েছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এই অস্ত্রগুলোই বিস্ফোরণের পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণে (Delhi Red Fort Blast) ১৫ জনের মৃত্যু হয়। হামলায় আত্মঘাতী বোমারু উমরও নিহত হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষা করে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল ফরেনসিক দল।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মুজাম্মিল গনাই, শাহিন সাঈদ, মুফতি ইরফান, আদিল আহমেদ, রাথার-সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরা প্রত্যেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
জামির ও তুফাইল কেবল বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) পরিকল্পনায় নয়, আরও কয়েকটি সন্ত্রাসী চক্রের কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ-সহ বিভিন্ন সংস্থার বিস্তৃত তদন্তে এই তথ্য মিলেছে।
মঙ্গলবার ধৃত দু’জনকে দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হলে আদালত তাদের ১০ দিনের NIA হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন, যাতে পুরো নেটওয়ার্ক ও পেছনের বড় চক্রের কাহিনি সামনে আনা যায়। তারা ১৫ দিনের হেফাজত চাইলেও আদালত ১০ দিন হেফাজতের অনুমতি দিয়েছে। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করাই এখন তাদের লক্ষ্য।
সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের একটি রিপোর্টে (UN Report) দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) এখনও সক্রিয় এবং ভারতের মাটিতে একাধিক হামলার সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছর দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast)। পাকিস্তান যদিও বারবার বলেছে যে জইশ-সহ নিষিদ্ধ সংগঠনগুলি আর সক্রিয় নয়, কিন্তু জাতিসংঘের রিপোর্টে পরিস্থিতির ভিন্ন ছবি ফুটে উঠেছে।
জাতিসংঘের অ্যানালিটিকাল সাপোর্ট ও স্যাংশন মনিটরিং টিমের (UN Analytical Support and Sanctions Monitoring Team) ৩৭তম রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একটি সদস্য দেশ (নাম প্রকাশ করা হয়নি) তাদের কাছে তথ্য দিয়েছে যে জইশ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত ১০ নভেম্বরের লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনাও, যাতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সংগঠনটি এখনও জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে।