গবেষকদের মতে, এই নামকরণ কেবল একটি সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং এমন এক শিল্পীকে স্মরণ করা, যিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে গোটা অঞ্চলের পরিচয় বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।

প্রজাপতির নাম রাখা হল গায়ক জুবিন গর্গের নামে
শেষ আপডেট: 28 March 2026 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরুণাচল প্রদেশের ঘন অরণ্যে মিলল এক নতুন প্রজাপতির খোঁজ (Arunachal Pradesh butterfly discovery), আর তার নাম রাখা হল উত্তর-পূর্ব ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গ (Zubeen Garg)-এর নামে (butterfly named after Zubeen Garg)। বিজ্ঞান আর সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন একদিকে যেমন অঞ্চলের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কথা সামনে আনছে, তেমনই তুলে ধরছে প্রয়াত শিল্পীর সাংস্কৃতিক প্রভাবও।
নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে Euthalia (Limbusa) zubeengargi। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের লেপারাদা জেলার বাসার অঞ্চলে এই প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছেন প্রজাপতি-অনুরাগী তথা পুলিশকর্মী রোশন উপাধ্যায় এবং গবেষক কালেশ সদাশিবন। বাসারের জঙ্গলে মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা চালানোর সময়ই তাঁদের নজরে আসে এই অজানা প্রজাতি।
পরবর্তীতে বিস্তারিত গবেষণার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি আগে কখনও নথিভুক্ত হয়নি। সেই সূত্রেই প্রজাতিটির সাধারণ নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাসার ডিউক’, যা তার আবিষ্কারের জায়গার কথা তুলে ধরে। এই আবিষ্কার যেমন বৈজ্ঞানিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই জুবিন গর্গের প্রতি এক শ্রদ্ধার্ঘ্যও বটে।
এই প্রজাপতি অত্যন্ত বিরল, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা। দীর্ঘ সময় ধরে সমীক্ষা চালিয়েও মাত্র দু’টি প্রজাপতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে এটি কি স্বভাবতই অল্পসংখ্যক, নাকি ঘন জঙ্গলে থাকার কারণে সহজে চোখে পড়ে না?
জানা গিয়েছে, এই প্রজাতি মূলত ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত আধা-চিরসবুজ অরণ্যে বাস করে। সাধারণত ছায়াঘেরা নিচু স্তরের ঝোপঝাড়ে এদের দেখা যায়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই প্রজাপতি ধীরগতিতে পাতার ফাঁকে ফাঁকে উড়ে বেড়ায় এবং গাছের রস খেয়ে বাঁচে। পাশাপাশি, জঙ্গলের ভেজা মাটি বা পৃষ্ঠ থেকে খনিজ পদার্থও সংগ্রহ করে।
গঠনগত দিক থেকে এই প্রজাপতির ডানা অলিভ-বাদামি রঙের, যার উপর সাদা দাগ এবং হালকা উজ্জ্বল ভাব রয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ প্রজাতির ডানার নকশা ও শারীরিক গঠন বিশ্লেষণ করেই গবেষকরা নিশ্চিত হন যে এটি ইউথালিয়া গণের এক সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি।
যাঁর নামে এই প্রজাতির নামকরণ, সেই জুবিন গর্গ উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সংগীতশিল্পী ছিলেন। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সংগীত ও শিল্পচর্চা অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচিতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গবেষকদের মতে, এই নামকরণ কেবল একটি সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং এমন এক শিল্পীকে স্মরণ করা, যিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে গোটা অঞ্চলের পরিচয় বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই আরেকটি নতুন উদ্ভিদ প্রজাতির নামও জুবিন গর্গের নামে রাখা হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক আইকনদের সম্মান জানাতে বৈজ্ঞানিক নামকরণে এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন সংস্কৃতির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানায়, তেমনই পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের অসাধারণ জীববৈচিত্র্য এবং তার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।