গভীর সমুদ্রে নামার সময়ে ওজনের বেল্ট খুলে গিয়েছিল তাঁর। ফলে তিনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্রুত ভেসে উঠতে থাকেন উপরের দিকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রাণরক্ষা করে তাঁর হাতে থাকা অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা।

প্রাণে বাঁচলেন স্কুবা ডাইভার
শেষ আপডেট: 3 October 2025 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুদুচেরির উপকূলে স্কুবা ডাইভিং (Scuba Diving) করতে গিয়েছিলেন মুম্বইয়ের (Mumbai) ২৬ বছরের টেকি ক্ষিতিজ জোদাপে। হঠাৎই জলে তলায় দুর্ঘটনা (Scuba Diving Accident)। গভীর সমুদ্রে নামার সময়ে ওজনের বেল্ট খুলে গিয়েছিল তাঁর। ফলে তিনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্রুত ভেসে উঠতে থাকেন উপরের দিকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রাণরক্ষা করে তাঁর হাতে থাকা অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা।
গত গ্রীষ্মে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৩৬ মিটার গভীরে ডুবেছিলেন ক্ষিতিজ। অভিজ্ঞ ডাইভার (Scuba Diver) হলেও এদিন আচমকা ওজনের বেল্ট খুলে যাওয়ায় তাঁর শরীর ভেসে ওঠে উপরের দিকে। বিপদটা বুঝলেও কিছুই করার উপায় ছিল না। এ সময় ঘড়িটি টানা সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে। প্রথমে স্ক্রিনে সতর্কতা দেখালেও পরে সাইরেন বেজে ওঠে।
ক্ষিতিজ বলেন, “জলে দৃশ্যমানতা খুবই খারাপ ছিল। হঠাৎ আমি উপরের দিকে উঠতে শুরু করি। বুঝতে পারছিলাম বিপদ আছে, কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না।”
ওয়াচ আল্ট্রা-র সেন্সর এই দ্রুত উত্থান টের পায়। ডাইভিং নিয়ম মেনে ধীরে উঠতে না পারলে ফুসফুস ফেটে যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ক্ষিতিজের ঘড়ি তখন উচ্চস্বরের সাইরেন বাজাতে থাকে। ওই শব্দ শুনেই দ্রুত ফিরে আসেন তাঁর প্রশিক্ষক এবং বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তাঁকে।
ক্ষিতিজ জানান, “আমি জানতামই না এই ঘড়িতে এমন সাইরেন ফিচার আছে। ওটাই আমাকে বাঁচিয়েছে।”
ঘটনার পরে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠি লেখেন অ্যাপলের সিইও টিম কুককে। অবাক হয়ে দেখেন, কুক নিজেই উত্তর দিয়েছেন। কুক লিখেছেন, “তোমার প্রশিক্ষক দ্রুত সাড়া দিয়ে সাহায্য করেছেন জেনে আমি খুশি। তোমার গল্প আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”
কীভাবে কাজ করে এই সাইরেন ফিচার?
অ্যাপল ২০২২ সালে চালু করেছিল অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা— অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই ডিভাইসে রয়েছে জরুরি সাইরেন। বিপদের সময় এটি টানা দুই ধরনের উচ্চস্বর তৈরি করে, যা ১৮০ মিটার দূর থেকেও শোনা যায়। পরিবেশের অন্য শব্দের সঙ্গে মিশে যায় না, ফলে বিপদে তাৎক্ষণিক সতর্ক করে।
অ্যাপল জানিয়েছে, জলে ভিজলেও সাইরেনের শব্দ কিছুটা কমে যায়, তবে শুকনো হলে আবার পুরো ভলিউমে বাজে। ক্ষিতিজের কথায়, ‘‘ওই সাইরেন না বাজলে আজ আমি হয়তো বেঁচে থাকতাম না।’’