যশবন্ত সিনহার নেতৃত্বে নাগরিক সংগঠনের রিপোর্টে উদ্বেগজনক ইঙ্গিত।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 13 December 2025 11:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের (Kashmir) পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট প্রকাশ করল কনসার্নড সিটিজেট’স গ্রুপ (Concerned Citizen’s Group)। প্রাক্তন অর্থ ও বিদেশমন্ত্রী যশোবন্ত সিনহার (Yashwant Sinha, former Finance and Foreign Minister, Government of India) নেতৃত্বে ওই নাগরিক সংগঠনের সদস্যদের হালের উপত্যকা সফরের অভিজ্ঞতা ভাল নয়। তারা জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে ভারত বিরোধিতার সুর দ্রুত মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। সিসিজি জানিয়েছে, পহেলগাম হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের পর কাশ্মীরে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা এবং তরুণদের উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রাক্তন আমলা যশোবন্ত সিনহা সাধারণ প্রশাসনের পাশাপাশি বিদেশে ভারতের দূতাবাসগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভার অর্থ ও বিদেশ, দুই মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ধীরে ধীরে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁর। ২০২৩-এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের প্রার্থী যশোবন্ত সিং দীর্ঘদিন কাশ্মীর নিয়ে কাজ করছেন। কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের লোকজনের সঙ্গে তাঁর সখ্য রয়েছে। সেই যোগাযোগের সূত্রে সম্প্রতি কাশ্মীরে রাজনৈতিক দল ও সমাজের নানা অংশের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন সিসিজি-র সদস্যরা।
আলোচনায় সেখানকার বিশিষ্টজনেরা তাঁদের জানিয়েছেন, ‘ভারত-বিরোধী মনোভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। অপারেশন সিন্দুরের পর থেকে পাকিস্তানের প্রতি জনসাধারণের মনোভাব অনেকটাই বদলে গেছে। জঙ্গিবাদ ধীর গতিতে থাকলেও, তরুণদের মধ্যে এক ধরণের আগ্রহ তাদেরকে বৃহত্তর মৌলবাদের ক্ষেত্রগুলিতে প্রবেশ করতে অনুপ্রাণিত করছে বলে মনে হচ্ছে। সিসিজি জানি্য়েছে, সম্ভবত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারের শক্তিগুলি প্রেরণার কাজ করছে।
তারা ভারতপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে পরিচিত দল ও গোষ্ঠীর শীর্ষ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সদস্যদের সঙ্গে আলেচনার ভিত্তিতে তাদের রিপোর্টটি তৈরি করেছেন। সিসিজি জানিয়েছে, আলোচনায় তারা উপলব্দি করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে জম্মু-কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেবে বলে ঘোষণা করলেও সেখানকার মানুষ মনে করেছেন, এটা একটি দূরবর্তী স্বপ্ন। রাজ্যে নির্বাচিত সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সেখানকার রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ। যশোবন্ত সিনহার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটির বক্তব্য, তাঁরা শ্রীনগরের মানুষের মধ্যে ‘বিষণ্ণ নীরবতার’ অনুভূতি ছিল প্রত্যক্ষ করেছেন।
তাঁদের কথায়, ‘সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠকের সময় আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে তবে এটি আংশিকভাবে জনসাধারণের নির্বাচিত ওমর আবদুল্লাহ সরকারের বিরুদ্ধেও আছে। তারা একথাও বলেছেন, সুশীল সমাজের একাংশ আবার খোলাখুলি মতামত ব্যক্ত করতে চাননি। চিকিৎসকদের একটি দল সিসিজি-র প্রতিনিধিদের বলেছেন, ‘আমাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রতিনিধি দলটিকে বলেছে, ‘ঘৃণার উপর ভিত্তি করে চাপা ক্রোধ এবং হতাশার একটি আগ্নেয়গিরি যে কোনও সময় অগ্ন্যুৎপাত করতে পারে এবং এর জন্য কেবল একটি ট্রিগার প্রয়োজন। অর্থাৎ পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক।