শুধু পাকিস্তানের ভাগের জল ঘোরানো নয়, খট্টর আরও জানান, দিল্লির দীর্ঘমেয়াদি জলের সমস্যা মেটাতে একাধিক বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির জলের টান (Water shortage) মেটাতে কেন্দ্রের নজর এবার পাকিস্তানের ভাগের জলে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর (Union Minister Khattar) জানালেন, ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি স্থগিত হওয়ার ফলে পাকিস্তানের দিকে যে বিপুল পরিমাণ জল যেত, তা আগামী দেড় বছরের মধ্যে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে (Indus waters may be diverted to Delhi)।
‘অপারেশন সিন্দুর’–এর সাফল্যের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, ১৯৬০ সালের চুক্তি স্থগিত রাখা হচ্ছে। খট্টর বলেন, “এখন পাকিস্তানের দিকে যাওয়ার যে জল আমাদের হাতে এসেছে, সেই জল দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে সরবরাহ করা যাবে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা চলছে।”
শুধু পাকিস্তানের ভাগের জল ঘোরানো নয়, খট্টর আরও জানান, দিল্লির দীর্ঘমেয়াদি জলের সমস্যা মেটাতে একাধিক বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। হাথনিকুন্ড ব্যারেজের কাছে নতুন বাঁধ তৈরির প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, যাতে বিপুল পরিমাণ জল সঞ্চয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদনও করা যাবে।
ইতিমধ্যেই হিমাচল প্রদেশে রেনুকা ড্যাম এবং উত্তরাখণ্ডে লাখওয়ার ড্যামের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিশাউ ড্যাম নিয়েও অচিরেই সমঝোতা হবে বলে আশা মন্ত্রীর। এগুলি চালু হলে দিল্লির পানীয় জলের ঘাটতি শুধু মিটবেই না, বরং বাড়তি জলও পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস খট্টরের।
পহেলগাম সন্ত্রাসহানির পরই ভারত ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তান আপত্তি জানালেও নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট—পুরনো চুক্তি আর কার্যকর নয়, জল ভারতের প্রয়োজনেই কাজে লাগবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের ভাগের জল ঘুরিয়ে দিলে উত্তর ভারতের জলের সঙ্কটে তাৎপর্যপূর্ণ বদল আসতে পারে। তবে এর বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, এখন সেটাই দেখার।