শশী তারুরের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তির গুঞ্জন জোরদার হয়েছে।
.jpeg.webp)
এ নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্ন ওঠে না বলে স্পষ্ট কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন।
শেষ আপডেট: 24 January 2026 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর শনিবার স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, সংসদে তিনি কখনও দলের ঘোষিত অবস্থান অমান্য করেননি। একমাত্র যে বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন, তা হল ‘অপারেশন সিঁদুর’। কেরল সাহিত্য উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারুর বলেন, এই ইস্যুতে তিনি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং এখনও সে অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্ন ওঠে না বলে স্পষ্ট কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন।
তিরুবনন্তপুরমের সাংসদের কথায়, সংসদে আমি কোনও পর্যায়েই কংগ্রেসের অবস্থান লঙ্ঘন করিনি। একমাত্র যে বিষয়ে নীতিগতভাবে প্রকাশ্যে মতভেদ হয়েছে, তা হল অপারেশন সিদুঁর নিয়ে। সেখানে আমি খুব শক্ত কঠিন অবস্থান নিয়েছিলাম এবং আমি তার জন্য একটুও অনুতপ্ত নই। পহলগামের ঘটনার পর আমি নিজেই একজন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক হিসেবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে একটি কলাম লিখেছিলাম। আমি তার শিরোনাম দিয়েছিলাম ‘আফটার পহলগাম’, ওরা শিরোনাম দেয় ‘হিট হার্ড, হিট স্মার্ট’। সেখানে আমি স্পষ্ট বলেছিলাম— এই হামলা শাস্তি ছাড়া থাকতে পারে না, এর জবাবে জোরাল জবাব হতেই হবে।
শশী তারুরের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তির গুঞ্জন জোরদার হয়েছে। দলের অন্দরমহলে চর্চা, সম্প্রতি কোচিতে এক অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী তাঁকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের তরফেও তাঁকে একাধিকবার কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ।
তারুর বলেন, উন্নয়নের পথে এগোতে থাকা ভারতকে যেন পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়ানো না হয়। তাঁর মতে, ভারতের পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ থাকা উচিত শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই। তিনি আরও বলেন,
ভারত যখন উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, তখন তাকে দীর্ঘ সংঘাতে টেনে নেওয়া উচিত নয়। যে কোনও সামরিক পদক্ষেপ শুধু জঙ্গি শিবিরগুলিতেই সীমাবদ্ধ থাকা দরকার। আশ্চর্যের বিষয়, ভারত সরকার ঠিক সেটাই করেছে, যা আমি বলেছিলাম।
জওহরলাল নেহরুর বিখ্যাত উক্তি— হু লিভস ইফ ইন্ডিয়া ডাইজ? স্মরণ করে তারুর বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্বের দরবারে ভারতের অবস্থানই সবার আগে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাঁর কথায়, একটি উন্নত ভারতের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু যখন দেশের স্বার্থ মূল প্রশ্নের মুখে, তখন সবার আগে ভারত।
এই অবস্থানেই থামেনি বিতর্ক। অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের জল্পনার মধ্যেই শুক্রবার দিল্লিতে কংগ্রেস হাইকমান্ডের ডাকা বৈঠক এড়িয়ে যান শশী তারুর। তার বদলে তিনি কেরলেই থেকে যান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেদিনই মোদী তিরুবনন্তপুরমে রোড শো করেন, আর শশী তারুর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি নিজের কেন্দ্রেই থাকবেন।
কোচির এক মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর আচরণে নিজেকে ‘অপমানিত’ মনে করায় দিল্লির বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারুর। রাজ্য ও কেন্দ্র— দুই স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতিই তাঁর অসন্তোষ এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলেই দাবি। যদিও কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। পরে অবশ্য দলীয় সূত্র জানায়, শশী তারুর হাইকমান্ডের অনুমতি নিয়েই দিল্লির বৈঠক এড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।