এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি দেশের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কে অবহিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ডিজিসিএ-র এক নির্দেশের পর সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার বহরের সমস্ত বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ পরীক্ষা করা হয়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 February 2026 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (Boeing 787 Dreamliner) বিমানকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে উড়ান থেকে সরিয়ে নেওয়া হল। বিমানের বাম দিকের ইঞ্জিনে থাকা ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ বারবার ‘রান’ অবস্থানে স্থির না থেকে ‘কাটঅফ’-এ (Run to Cut Off) চলে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই সমস্যাটি ইঞ্জিন স্টার্টের সময় দু’বার লক্ষ্য করা হয়। এর পরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটি গ্রাউন্ডেড করার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থা।
উড়ান নম্বর এআই ১৩২ - হিথরো থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট পাইলট বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটির বিষয়টি রিপোর্ট করেন। সেই তথ্য পাওয়ার পরই বিমানটিকে পরিষেবা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখতে বিমানের নির্মাতা সংস্থা বা ওরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (OEM)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি দেশের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কে (DGCA) অবহিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ডিজিসিএ-র এক নির্দেশের পর সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার বহরের সমস্ত বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি বলেই দাবি সংস্থার।
সংস্থার মুখপাত্রের বক্তব্য, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই কারণেই সামান্য সন্দেহ দেখা দিলেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ বিষয়টি সাম্প্রতিক অতীতেও আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ড্রিমলাইনার ভেঙে পড়ার ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। সেই দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, টেক-অফের কয়েক সেকেন্ড পর পরপর দু’টি ইঞ্জিনের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’-এ চলে যায়। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে শক্তি হারাতে শুরু করে বিমানটি।
তদন্তকারীদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে এক পাইলট অন্যজনকে প্রশ্ন করতে শোনা যায় - কেন তিনি জ্বালানি বন্ধ করলেন। অপর পাইলট জানান, তিনি এমন কিছু করেননি। রিপোর্টে অবশ্য স্পষ্ট করা হয়নি, কোন মন্তব্যটি ক্যাপ্টেনের আর কোনটি ফার্স্ট অফিসারের।
বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ অবস্থায় পাইলটের পক্ষে ভুলবশত এই ফুয়েল সুইচ সরিয়ে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, সুইচগুলি স্প্রিং-লোডেড এবং ইঞ্জিন থ্রাস্ট লিভারের নীচে থাকে। ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’-এ নিয়ে যেতে হলে প্রথমে সুইচটি টেনে তুলে তারপর আলাদা করে অবস্থান বদলাতে হয়।
এই সুইচগুলির দুটি মোড - ‘রান’ এবং ‘কাটঅফ’। উড়ানের মাঝপথে যদি কোনও কারণে সুইচ ‘কাটঅফ’ থেকে আবার ‘রান’-এ ফেরানো হয়, তবে ইঞ্জিনের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিজে থেকেই পুনরায় ইগনিশন ও থ্রাস্ট ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। আমেদাবাদ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষে দু’টি সুইচই ‘রান’ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
নতুন করে হিথ্রো–বেঙ্গালুরু উড়ান ঘিরে ওঠা এই ঘটনার জেরে ফের বোয়িং ৭৮৭-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।