Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়ের

ChatGPT-তে ফাঁস সংবেদনশীল নথি! আমেরিকায় বিতর্কে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান

যে সংস্থার দায়িত্ব সরকারি নেটওয়ার্ককে সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করা, সেই সংস্থার শীর্ষ কর্তা নিজেই নাকি জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটি-তে সরকারি নথি আপলোড করেছিলেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এখন ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোচনা।

ChatGPT-তে ফাঁস সংবেদনশীল নথি! আমেরিকায় বিতর্কে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান

মধু গোট্টুমুক্কালা

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 29 January 2026 08:38

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার নিরাপত্তা (US Cyber Security) মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এক বিতর্কিত ঘটনায়। যে সংস্থার দায়িত্ব সরকারি নেটওয়ার্ককে সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করা, সেই সংস্থার শীর্ষ কর্তা নিজেই নাকি জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটি-তে (ChatGPT) সরকারি নথি আপলোড করেছিলেন। এই ঘটনাকে ঘিরে এখন ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোচনা।

সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বলছে, সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (CISA) ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর মধু গোট্টুমুক্কালা (Madhu Gottumukkala) গত বছরের শুরুর দিকে কাজের প্রয়োজনে চুক্তি সংক্রান্ত ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু নথি চ্যাটজিপিটিতে শেয়ার করেন। সেই নথিগুলি আপলোড হতেই স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কতা চালু হয়ে যায় এবং বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই নথিগুলি গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ না হলেও সেগুলিতে ‘ফর অফিসিয়াল ইউজ অনলি’ চিহ্ন ছিল। অর্থাৎ, সেগুলি প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়া নিষিদ্ধ। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের (DHS) একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই আপলোডের ফলে এমন সব সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়, যা সংবেদনশীল সরকারি তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে তৈরি।

কে এই মধু গোট্টুমুক্কালা

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মধু গোট্টুমুক্কালার (Madhu Gottumukkala) দায়িত্বই হল রাশিয়া ও চিনের মতো রাষ্ট্রসমর্থিত সাইবার হামলা থেকে ফেডারেল নেটওয়ার্ক রক্ষা করা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও উল্লেখযোগ্য। ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইনফরমেশন সিস্টেমসে পিএইচডি, ইউনিভার্সিটি অফ ডালাস থেকে এমবিএ, ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট আরলিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর এবং অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি।

এই ঘটনার পর গত অগস্টে ডিএইচএস-এর শীর্ষ কর্তারা একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেন, যাতে বোঝা যায় কোনও সরকারি সিস্টেম বা পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। তবে সেই পর্যালোচনার ফলাফল এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

সূত্রের খবর, গোট্টুমুক্কালার কাছে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতি ছিল। সাধারণভাবে ডিএইচএস-এর অধিকাংশ কর্মীকে এই এআই টুল ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, চ্যাটজিপিটির প্রকাশ্য সংস্করণে দেওয়া তথ্য সংরক্ষিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে সিস্টেম উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, যা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে বিষয়টি হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেছে CISA। সংস্থার মুখপাত্র মার্সি ম্যাকার্থি ইমেলে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যেই অল্প সময়ের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গোট্টুমুক্কালা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি শেষবার চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন এবং সেটিও ছিল অস্থায়ী ব্যতিক্রম হিসেবে অনুমোদিত।

এই ঘটনা নতুন করে নজর কেড়েছে, কারণ এর আগেও গোট্টুমুক্কালাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পলিগ্রাফ পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের পর CISA-র কয়েকজন কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। যদিও সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন এবং কংগ্রেস সদস্যদের জানিয়েছেন, তিনি ওই ব্যাখ্যাই মানেন না।

সব মিলিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সরকারি নীতিনির্ধারণ ও সাইবার নিরাপত্তার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল এই ঘটনা।


```