যাত্রী-সহ একটি আন্তর্জাতিক বিমান মাঝ পথে ফিরিয়ে আনতে হলে বিপুল খরচ হয়। এ ধরনের বিমানে প্রতি ঘণ্টায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ হয়, তাই এই ঘটনাটি এয়ারলাইনের আর্থিক ক্ষতিও বাড়াবে।

মাঝআকাশ থেকে ফিরল এয়ার ইন্ডিয়া (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 21 March 2026 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি থেকে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের উদ্দেশে উড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই ১৮৫ (Air India Flight AI185)। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আকাশে উড়ে চিনের আকাশসীমায় (China Airspace) ঢুকে পড়ার পর জানা গেল, ভুল বিমান পাঠানো হয়েছে! যে বিমানের কানাডায় (Canada) ঢোকার অনুমতি নেই, সেটাই ভুলবশত যাত্রীসমেত পাঠিয়ে দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া। ফলে বাধ্য হয়ে মাঝ আকাশ থেকে দিল্লিতে ফিরে এল বিমানটি (Air India flight return)। বৃহস্পতিবার ঘটে এই বিরল ঘটনা।
কী ভুল হয়েছিল?
সূত্রের দাবি, কানাডার উদ্দেশ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার যেসব বিমান উড়তে পারে, তার জন্য আলাদা অনুমতি থাকে। এই রুটে বিমানের মডেল স্পষ্টভাবে নির্ধারিত- বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর (Boeing 777-300ER)। কিন্তু ভুলবশত এ দিন উড়ে যায় বোয়িং ৭৭৭-২০০এলআর (Boeing 777-200LR) বিমানটি, যার কানাডায় প্রবেশের অনুমতি নেই (AI185 wrong aircraft)।
প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই ভুল বিমান পাঠানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে (Air India documentation mistake)। বিমানটি যখন বহু দূর এসে চিনের আকাশের উপর পৌঁছেছে, তখনই বিষয়টি নজরে আসে। ফলে সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়ে আনা হয় ফ্লাইটটিকে।
সাত ঘণ্টার বেশি আকাশে কাটিয়ে ফেরত
এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই ১৮৫ বিমানটি প্রায় ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে ছিল। ‘Flightradar24’-এর তথ্য অনুযায়ী, চিনের আকাশসীমা থেকে বিমানটি ঘুরিয়ে আনা হয়। সন্ধ্যার দিকে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে। ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও জানা যায়নি।
এয়ার ইন্ডিয়ার ব্যাখ্যা
এয়ার ইন্ডিয়া একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, “অপারেশনাল সমস্যার কারণে বিমানটিকে মাঝপথে ফিরিয়ে আনা হয়। যাত্রী ও ক্রু সকলেই নিরাপদে নেমেছেন। অসুবিধার জন্য দুঃখিত।”
এয়ারলাইন আরও উল্লেখ করেছে,
পরদিন সকালে যাত্রীদের নিয়ে নতুন করে ফ্লাইট ভ্যাঙ্কুভারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রী-সহ একটি আন্তর্জাতিক বিমান মাঝ পথে ফিরিয়ে আনতে হলে বিপুল খরচ হয়। এ ধরনের বিমানে প্রতি ঘণ্টায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ হয়, তাই এই ঘটনাটি এয়ারলাইনের আর্থিক ক্ষতিও বাড়াবে। যদিও বিমান সংস্থার তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।